ঘুরে গেল খেলা! সন্দীপ ঘোষ, অভিজিৎ মণ্ডলের মোবাইল থেকে মুছে ফেলা তথ্য সিবিআইয়ের হাতে, নয়া মোড় আর জি কর কাণ্ডের তদন্তে

আর জি করের তরুণী চিকিৎরসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার তিনমাস অতিবাহিত। এখনও বিচার পান নি নির্যাতিতা। তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। এই ঘটনায় ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছে। ১১ নভেম্বর থেকে শিয়ালদহ আদালতে শুরু হবে বিচার প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে এবার সিবিআইয়ের হাতে এল অভিযুক্ত আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের মোবাইল থেকে মুছে ফেলা নানান তথ্য। এই তথ্য আর জি কর কাণ্ডের তদন্তের মোড় ঘোরাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সন্দীপ ঘোষ ও অভিজিৎ মণ্ডলের একাধিক ফোন কল রেকর্ডিং মিলছিল না বলে অভিযোগ উঠেছিল। সিবিআইয়ের দাবী ছিল, তথ্য প্রমাণ লোপাট করার জন্য সেই তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে। এই তথ্যপ্রমাণ লোপাটের বিষয়টি চার্জশিটেও উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, সন্দীপ ঘোষ ও অভিজিৎ মণ্ডল একে অপরকে চিনতেন। ৯ আগস্ট অর্থাৎ তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধারের দিন দু’পক্ষের মধ্যে একাধিকবার কথা হয়। ফোনে কথা বলে তথ্য লোপাট করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই কথোপকথনের রেকর্ডিং মুছে ফেলা হয়েছে বলে দাবী করেছিল সিবিআই।

তবে সন্দীপ ও অভিজিতের আইনজীবীরা শিয়ালদহ আদালতে বারবার দাবী করেছিলেন, তাদের মক্কেলদের জোর করে আটকে রাখা হয়েছে। তথ্যপ্রমাণ লোপাটের কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে এবার সেই প্রমাণ সিবিআইয়ের হাতে এল। কল রেকর্ডিং ছাড়াও ঘটনার দিন ও তার পরেরদিনের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজও পেয়েছে সিবিআই।

জানা গিয়েছে, অভিজিৎ মণ্ডলের ফোনে অটো কল রেকর্ডিং মোড অন ছিল। তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের দিন সন্দীপ ঘোষ অভিজিৎ মণ্ডলকে ফোন করে নানান নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই কল রেকর্ডিং মুছে ফেলা হয়েছিল ফোন থেকে। তথ্য গোপনের জন্য মুছে ফেলা হয় সেই রেকর্ডিং। তবে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেই ফোন রেকর্ডিং সিবিআইয়ের হাতে এসেছে। সেই কল রেকর্ডিং এই তদন্তের মোড় ঘোরাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ পোশাক খুলে নাচতে হবে, ‘হট ডান্সের’ আবদার ক্লাবের সদস্যদের! অশ্লীল প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নৃত্যশিল্পীদের মারধরের অভিযোগ

সিবিআই সূত্রে খবর, সন্দীপ ও অভিজিতের মোবাইলের সিএফএসএল রিপোর্টে বিশেষ তথ্য মিলেছে। দু’জনের ফোন থেকেই একাধিক কল রেকর্ডিং উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও-ও মিলেছে মোবাইল থেকে। সিবিআইয়ের দাবী, এরা দুজনে একসঙ্গে গোটা ঘটনাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল। তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা হয়েছিল বলে তথ্য পেয়েছে সিবিআই। এবার এই ঘটনা কোনদিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার!

RELATED Articles