পয়লা বৈশাখের সকালে একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে সিবিআই। গতকাল্ম শুক্রবার বেলার দিকে সিবিআইয়ের একটি টিম হানা দেয় তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়ি। সেখানে এখনও চলছে তল্লাশি। আজ, অর্থাৎ পয়লা বৈশাখের দিন সকালে সিবিআই তল্লাশি চালায় বীরভূমের নলহাটির প্রাক্তন তৃণমূল ব্লক সভাপতি বিভাস অধিকারীর বাড়ি। আবার অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি বিধানসভার ভগবানপুর ২ ব্লকের খিরিশবাড়ি এলাকায় গোপাল দলপতির বাড়িও হানা দেয় সিবিআই।
এদিন সিবিআইয়ের একটি ৮ জনের প্রতিনিধি দল যায় গোপালের বাড়ি। প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট ধরে গোপালের মা-বাবার সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। তারা বেরিয়ে গেলে গোপালের মা জানান যে তিনি তাদের সবরকম তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছেন। একইসঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্ফোরক দাবী করে জানান যে কুন্তল ঘোষই তাঁর ছেলেকে ফাঁসিয়েছে। প্রসঙ্গত, কুন্তল ঘোষ আপাতত নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে জেলবন্দি।
এদিন গোপালের মা সিবিআইকে জানান যে মাস দুয়েক আগে গোপাল ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। ছেলের সঙ্গে তাঁর কী কথা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা করেন তদন্তকারীরা। এর আগে গোপালের মা জানিয়েছিলেন যে শিবরাত্রির দিন গোপাল ভগবানপুরের বাড়ি থেকে কলকাতায় যান। এক ব্যক্তি একটি চিঠির মতো খাম দিয়ে গিয়েছিলেন তবে তাতে কি ছিল, তা তিনি জানেন না বলে জানান গোপালের মা। সেই খামের বিষয়ে জানতে চায় এদিন সিবিআই।
প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ধৃত কুন্তল ঘোষের থেকে প্রথম শোনা যায় গোপাল দলপতির নাম। কুন্তলের সঙ্গে যোগসাজশ ছিল বলে সিবিআই তদন্তে উঠে আসে। কুন্তল দাবী করেছিলেন, গোপাল তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হৈমন্তী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মিলে দুর্নীতির টাকা নিয়েছেন। এমনকি, হৈমন্তীর অ্যাকাউন্টে নিয়োগ দুর্নীতির সব টাকা রয়েছে বলেও দাবী করেন কুন্তল।
আজ গোপালের পূর্ব মেদিনীপুরের বাড়িতে তল্লাশির পর কলকাতার হরিদেবপুরে একটি ফ্ল্যাটে যায় সিবিআই। সেখানে বাইরে সিআরপিএফ জওয়ানরা ছিলেন। ফ্ল্যাটে তল্লাশি শুরু হয়। এই ফ্ল্যাটটি গোপালের স্ত্রী হৈমন্তী মুখোপাধ্যায়ের নামে। সেখানে গোপালের যাতায়াত ছিল বলে জানা গিয়েছে। গোপালের নাম নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে জড়ানোর পর তাদের আর এখানে দেখা মেলেনি। এই ফ্ল্যাটের বাইরে থেকেই নিয়োগ সংক্রান্ত অনেক নথি মিলেছিল।





