নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে তদন্ত চলছেই। নানান সময় উঠে আসছে নানা তথ্য। এবার এই মামলায় তৃণমূলের দুই কাউন্সিলরকে তলব করল সিবিআই। এদের মধ্যে একজন হলেন বিধাননগরের মেয়র পারিষদ তথা তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী আর অন্যজন হলেন কলকাতা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত।
২০২২ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। এরপর থেকেই জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ধৃতদের তালিকায় রয়েছে শিক্ষা দফতরের একাধিক আধিকারিকও। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে শিকড়ে পৌঁছতে চাইছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। সেই কারণেই এমন তৎপরতা।
এর আগে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত ও দেবরাজ চক্রবর্তী, দুই কাউন্সিলরের বাড়িতেই তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। যে সমস্ত নথি উদ্ধার হয়েছে, সেই বিষয়েই এদিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সূত্রের খবর। আজ, বৃহস্পতিবার ১১টার সময় তাদের নিজাম প্যালেসে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ মতো পৌঁছে যান দেবরাজ চক্রবর্তী।
গত বছরের নভেম্বর মাসে দেবরাজ চক্রবর্তীর দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই। বাড়ির দোতলায় অদিতি মুন্সীর স্টুডিওতেও চালানো হয়েছিল তল্লাশি। সেই সময় দেবরাজ জানিয়েছিলেন, সিবিআই তাঁর বাড়ি থেকে ব্যাঙ্কের ডিটেইলস, তাঁর সংস্থা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য নিয়ে গিয়েছে।
আজ, বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ের আগেই সিবিআই দফতরে পৌঁছন দেবরাজ চক্রবর্তী। এদিন নিজাম প্যালেসে প্রবেশ করার আগে কেন্দ্রীয় সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন কাউন্সিলর। জানান, গতকাল, বুধবার বিকেলেই তাঁকে হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আর আজ সকাল ১১ টায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। দেবরাজ বলেন, “২৪ ঘণ্টার কম সময় দেওয়া হয়, এটাই খারাপ লাগে। আমাদের অনেক কাজ থাকে, সেগুলো ফেলে আসতে হয়”।
অন্যদিকে, আবার এলাকায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। পার্থ চট্টোপাধ্যায় যে সংস্থায় কর্মরত ছিলেন, সেখানেই কাজ করতেন বাপ্পাদিত্য। পার্থর হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন বাপ্পাদিত্য। সিবিআই সূত্রে খবর, শুধুমাত্র রাজনৈতিক সম্পর্কই নয়, বাপ্পাদিত্যর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনও হয়েছে পার্থর। কী বিষয়ে হয়েছিল সেই আর্থিক লেনদেন, তা জানার বাপ্পাদিত্যর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল সিবিআই।





