কর্মবিরতি অব্যাহত! এখনই কাজে ফিরছেন না জুনিয়র চিকিৎসকরা, জারি থাকবে আন্দোলন, মুখ্যমন্ত্রীকে নতুন শর্ত চিকিৎসকদের

গত সোমবার কালীঘাটে অনেক টালবাহানার পর বৈঠক হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জুনিয়র চিকিৎসকদের মধ্যে। সেদিন চিকিৎসকদের দাবী শোনেন মুখ্যমন্ত্রী। জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবী মেনে পুলিশ কমিশনার ও দুই স্বাস্থ্যকর্তাকে বদলি করে রাজ্য। তবে জুনিয়র চিকিৎসকরা জানালেন তারা কর্মবিরতি তুলছেন ন। বরং মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া হল নতুন শর্ত।

গতকাল, মঙ্গলবার বদলি করা হয়েছে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল ও দুই স্বাস্থ্য কর্তাকে। এরপর মনে হচ্ছিল জুনিয়র চিকিৎসকরা হয়ত কর্মবিরতি তুলে নেবেন। তবে মঙ্গলবার জিবি বৈঠকের পর মধ্যরাতে তারা জানিয়ে দিলেন তারা কাজে ফিরছেন না এখনই। তাদের কথায়, হাসপাতালের রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন জারি থাকবে।  

এদিন আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো জানান, “আমাদের যে চতুর্থ এবং পঞ্চম দাবি ছিল অর্থাৎ প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারির বিষয়টি সেটা মানতে হবে। আর মাহামান্য সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিয়ে আমাদের দাবিকে মান্যতা দিয়েছে। আমাদের দাবি ছিল কলেজ ক্যাম্পাসে যাতে দ্বিতীয়বার তিলোত্তমার ঘটনা না ঘটে সেই সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে। কলেজে-কলেজে গণতান্ত্রিক পরিসর আরও বৃহত্তর করতে হবে। আমরা মনে করি এই দাবিগুলি নিয়ে দ্রুত সরকারের সঙ্গে আলোচনায় হওয়া উচিত”।

আন্দোলনকারীদের কথায়, “মহিলা চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্য কর্মীদের রাতের পরিবর্তে দিনের ডিউটি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে রাজ্য তার আমরা বিরোধিতা করছি। এর ফলে নারী পুরুষ বৈষম্য তৈরি হবে। পরিকাঠামো উন্নয়ন না করে শুধু নিরাপত্তা কর্মী দিয়ে হাসপাতালের সুরক্ষা সম্ভব নয়। বহু হাসপাতালে জীবনদায়ী ওষুধ থাকে না। ফলে কাজ করতে গিয়ে রোগীর পরিজনদের হাতে আক্রান্ত হতে হয়। তাই নিরাপত্তা-সহ এই দাবীগুলি যাতে দ্রুত পূরণ হয়, তা নিয়ে আরও আলোচনা জরুরি”।

তাদের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোগী কল্যাণ সমিতি ভেঙে দেওয়ার কথা বললেও সেগুলি এখনও রয়েছে। তারা জানা, শুধুমাত্র ভেঙে দিলেই হবে না, কীভাবে হাসপাতালগুলিতে রোগী কল্যাণ সমিতি পরিচালিত হবে, এর একটা রূপরেখার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।

আরও পড়ুনঃ আর জি কর আবহেই সরকারি হাসপাতালে রোগী মৃত্যুকে ঘিরে তুমুল শোরগোল, মদ খেয়ে ছিলেন চিকিৎসক, দাবী রোগীর পরিবারের

গতকাল, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে ফেরার প্রসঙ্গ ওঠে। চিকিৎসকদের আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং জানান, তাদের জিবি বৈঠকের পরই তারা কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন। এবার জুনিয়র চিকিৎসকরা জানালেন তারা এখনই কাজে ফিরছেন না। তারা কবে কাজে ফিরবেন, এখন সেটাই দেখার!

RELATED Articles