“CESC-র দাবি তারা এক টাকাও বেশি নিচ্ছে না, নতুন বিল না এলে টাকা দিতে হবে না”, জানালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

আজকাল মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার জন্য একটা নামই যথেষ্ট, “সিইএসসি” (CESC)। লকডাউনের পর থেকে মাসিক বিলে মাত্রাতিরিক্ত জল ঢেলে যেভাবে তারা বিদ্যুতের বিল পাঠাচ্ছেন তাতে মানুষ করোনার হাত থেকে বেঁচে গেলেও বিলের চাপে নাজেহাল। তবে এবার সিইএসসি’র এই দৌরাত্ম থামাতে মাঠে নেমেছেন স্বয়ং বিদ্যুৎমন্ত্রী।

লকডাউনের দরুন বন্ধ ছিল বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার রিডিং নেওয়ার কাজ। তাই লকডাউন উঠতেই মিটার রিডিং নিয়েই পুরোনো বিলের ওপর হিসাব করে নতুন বিল তৈরি করে ফেলেছে এই নামজাদা বিদ্যুৎ সংস্থা। যার ফলে সাধারণ মানুষের কাছে অস্বাভাবিক হারে বিলের অর্থ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্যের মানুষের চাপ ও সরকারের চাপে কিছুটা পিছু হঠে সিইএসসি। সিইএসসি-র তরফে জানানো হয় যে, আপাতত তারা পুরোনো বিলের হিসেব স্থগিত রেখে শুধু গত মাসের নতুন বিল পাঠাবেন। তাই এবার বিদ্যুৎ মন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন বিল না এলে পেমেন্ট করার দরকার নেই। গড় বা গত বছরের জুনের ভিত্তিতে নয়া বিল তৈরি করতে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিলের জট ছাড়াতে বিদ্যুৎমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বসে সিইএসসি। কিন্তু তাতেও আখেরে কোনো লাভই হলো না। শোভনদেব চচট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘সিইএসসির দাবি, তারা বিলে এক পয়সাও বেশি নিচ্ছে না।’ তিনি আরও বলেছেন যে, যাঁরা ইতিমধ্যেই বিল মিটিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমনকি সমাধান যতক্ষন না মিলবে ততক্ষণ পর্যন্ত বিল মেটাতে দেরি হলেও ছাড় দেওয়া হবে।

তবে বিদ্যুৎমন্ত্রী দাবি করেছেন, লকডাউনে মানুষ গৃহবন্দী ছিল, তাই বিদ্যুৎ খরচও আগের থেকে বেশি হয়েছে। পাশাপাশি এক সঙ্গে তিন মাসের বিল আসাতে বিলের অঙ্কও অনেকটা বেড়ে গেছে। এছাড়া লকডাউনের জেরে মানুষের আর্থিক অবস্থা এখন যথেষ্ট খারাপ। তাই এই অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে বিল মেটাতে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে সকলেরই।

সত্যি কি লকডাউনের কারণে বিদ্যুতের বিল বেশি আসছে নাকি সিইএসসির এই কান্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সুর পাল্টাচ্ছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী? প্রসঙ্গত, দৈনিক সংবাদে মানুষের কাছে এই বাড়তি বিলের কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সিইএসসিকে। কিন্তু সেখানেও কোনো কারণ উল্লেখ না করে, কেবল নিজেদের সাফাই গেয়েছে সংস্থা।

RELATED Articles

Leave a Comment