স্বামী তুমি কার? আদালতের সামনে দাঁড়িয়েই এক যুবককে নিয়ে টানাটানি দুই স্ত্রীর, শোরগোল পড়ে গেল চারিদিকে

সকাল সকাল যেন হইহুল্লোড় বেঁধে গেল ঘাটাল আদালতের সামনে। দেখা গেল এক যুবকের হাত ধরে টানাটানি করছেন দুই মহিলা। দু’জনেরই দাবী, ওই যুবক তাদের স্বামী। কেউই ছাড়বেন না যুবককে। আর এই কীর্তি দেখতে আদালত চত্বরে তখন ভিড়।

যুবক জানালেন তিনি নাকি ওই দুই মহিলারই স্বামী। প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে তাঁর। দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদটা হয়নি তবে আলাদা থাকেন তারা। আবার এই আলাদা থাকার পর থেকেই প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ফের সম্পর্ক জোড়া লাগতে শুরু করে যুবকের। যুবকের নাম প্রশান্ত কয়ারি।

গোটা ঘটনাটি ঠিক কী?

জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার ছোটবালা গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত কয়ারির সঙ্গে দাসপুরের খেপুত উত্তরবাড়ের বাসিন্দা মৌসুমী চক্রবর্তীর বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কিছু মাস পরই তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। এই বিবাহবিচ্ছেদের পর ঘাটাল থানার হরেকৃষ্ণপুরের বনানী হড়কে ফের বিয়ে করেন প্রশান্ত। বনানীর সঙ্গে ভালোই সংসার চলছিল প্রশান্তর। অন্তঃসত্ত্বাও হন বনানী। কিন্তু মাস ছয়েক পরই দু’পক্ষের বিবাদ শুরু হয়।

জানা গিয়েছে, প্রশান্তর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে বাপের বাড়ি চলে যান বনানী। এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। সেই সন্তানের এখন বয়স ৭ মাস। বিবাহবিচ্ছেদ না হলেও দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেন নি প্রশান্ত। বাচ্চারও খোঁজ নেননি।

এবার আসে গল্পের অন্য মোড়। এরমধ্যেই হঠাৎ প্রথম পক্ষের স্ত্রী মৌসুমীর সঙ্গে আবারও প্রশান্তের সম্পর্ক জোড়া লাগতে শুরু করে। তবে প্রশান্তর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর গত জুন মাসেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন মৌসুমীও। তাঁর সেই দ্বিতীয় স্বামীর নাম প্রসেনজিৎ রায়। বিয়ের ১৬ দিন পরই বাপের বাড়ি যান মৌসুমী। তারপর থেকেই বেপাত্তা। নতুন শ্বশুরবাড়িতে মৌসুমীর আর দেখা মেলে না।

প্রসেনজিতের দাবী, তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন নিজের প্রথম স্বামী প্রশান্তর কাছেই ফিরে গিয়েছেন মৌসুমী। প্রশান্ত ও মৌসুমী দু’জনেই প্রসেনজিতের কাছে ডিভোর্সের আবেদন করেন। সদ্য বিয়ে হলেও স্ত্রীর আবেদন ফেরাননি প্রসেনজিৎ। রাজি হয়ে যান তিনি ডিভোর্স দিতে।

গতকাল, মঙ্গলবার সকালে ডিভোর্সের আবেদন নিয়ে যান মৌসুমি, প্রসেনজিৎ ও প্রশান্ত। এদিকে আবার এই খবরটি পান প্রশান্তর দ্বিতীয় স্ত্রী বনানী। তিনিও ছোটেন আদালতে। সেখানে গিয়েই শুরু হয় ঝামেলা। প্রশান্তকে ধরে টানাটানি শুরু করে তার দুই স্ত্রী। বনানী পুলিশকে অভিযোগ জানাতে পুলিশ আটক করে প্রশান্তকে।

RELATED Articles