‘এমন চললে বিজেপি ৫টি আসনও পাবে না’, হতাশার সুর অনুপম হাজরার গলায়, উস্কে দিলে দলীয় কোন্দল

বিজেপির দলীয় কোন্দল নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে এই মুহূর্তে চর্চার অন্ত নেই। এই নিয়ে বিক্ষুব্ধদের কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তবে সেই বার্তা ভালোভাবে নেন নি বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অনুপম হাজরা। সেই নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করলেন তাতে দলের অন্তর্বর্তী দ্বন্দ্ব যেন আরও প্রকট হল।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

ঘটনার সূত্রপাত ইলামবাজারের পাড়ুই মাখড়াগ্রামের  বিজেপিকর্মীর বাড়ি আক্রমণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বিজেপিকে সমর্থন করার ফলে এক কর্মীকে চোর অপবাদ দিয়ে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এসেছে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল।

আক্রান্ত ওই বিজেপি কর্মীর অভিযোগ করেছেন যে তিনি বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্ন্যাসী চরণ মণ্ডলের সঙ্গে ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু জেলা সভাপতি তাঁকে কোনও সাহায্য করে নি। এমনকি দলের তরফেও তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। ওই বিজেপি কর্মীর কথা জানতে পেরে তাঁর পাশে দাঁড়ান অনুপম হাজরা। এই ঘটনাতেই নিজের দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলেন তিনি। তাঁর কথায়, “জিয়ার আলির একটাই অপরাধ তিনি বিজেপি করেন। গরিব অসহায় পরিবারের সঙ্গে যা হল, তা এক কথায় ঘৃণ্য”।

আর কী বললেন অনুপম?  

জেলা বিজেপি সভাপতি এবং জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও সরব হন অনুপম হাজরা। তিনি বলেন, “বিজেপির বুথস্তরের কর্মীরা ধরেই নেয় জেলা সভাপতিকে ফোন করলে কোনও সুরাহা হয় না। কেন জেলা সভাপতি অথবা জেলা নেতৃত্ব তাদের দায়িত্ব পালন করবেন না। অযোগ্য মানুষজন বসে রয়েছে জেলার বিভিন্ন নেতৃত্বে। বুথস্তরের বিজেপি কর্মীদের যথাযথ সম্মান জানানো উচিত। জেলা ও রাজ্য বিজেপিতেও বেশ কয়েকজন ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। পদটিকে নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভাবছেন। এমন চলতে থাকলে লোকসভায় পাঁচটি সিটও পাওয়া চাপ হবে”।

সম্প্রতি, সল্টলেকে বিজেপির অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন দলীয় কর্মী, সমর্থকদের একাংশ। বিক্ষোভকারীরা দাবী তুলেছিলেন যে অমিতাভ চক্রবর্তী ও অমিত মালব্যকে রাজ্যে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরাতে হবে। এমনকি তারা বঙ্গ বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। এমন ঘটনার পর বিক্ষোভকারী কর্মীদের সাসপেন্ডের হুঁশিয়ারি দেন সুকান্ত। তাঁর সেই সিদ্ধান্তকে কোনওভাবেও সমর্থন করতে নারাজ অনুপম হাজরা।

RELATED Articles