করোনার প্রভাব: বাংলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলির ছুটির সময়সীমা বাড়ানো হলো : থাকবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত

করোনাভাইরাস নিয়ে যে মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সারা পৃথিবীতে তা থেকে বাদ নেই ভারতও।করোনার আশঙ্কায় গত শুক্রবারই নবান্নের তরফে নির্দশিকা জারি হয়েছিল সমস্ত স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মাদ্রাসা ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। কিন্তু সোমবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, সেই ছুটি বাড়ানো হচ্ছে। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মাদ্রাসা। আইসিডিএস স্কুলও বন্ধ থাকবেআর, ওই সমস্ত স্কুলে মিড ডে মিলের যে রান্না হয় তার কাঁচা মাল ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে পৌঁছে দেবে রাজ্য সরকার।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন বোর্ডের যে সমস্ত পরীক্ষা চলছে, সেগুলি চলবে তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ পঠনপাঠন বন্ধ থাকবে। বাংলায় এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ২৪ হাজার মানুষের স্ক্রিনিং হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি বলেন, পাঁচহাজার মানুষকে নিজেদের বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।

মমতা এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ইতালি, ফ্রান্স, ইরান, স্পেন-সহ আরো অনেক দেশের করোনা আক্রান্তের সংখ্যাতথ্য উপস্থাপন করে জানান, তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে। সেই পরিসংখ্যানের কথা মাথায় রেখেই সরকার স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়-মাদ্রাসার ছুটি বাড়াল। তিনি আরো বলেন, রাজ্যসরকার করোনার বিষয় সচেতনতা বাড়াতে যে কলসেন্টার পরিষেবা চালু করেছে, সেখানে এর মধ্যেই পাঁচহাজার কল এসেছে, রোগ সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ চাইতে।

পশ্চিমবঙ্গে এখনও করোনা আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া না গেলেও রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক সতর্কতা অবলম্বন করেছে। অনেক হাসপাতালে চালু করা হয়েছে আইসোলেশন ওয়ার্ড। কোনও জায়গায় করোনা সংক্রমণের সন্দেহ হলেই তাঁকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিনও আবেদন করেন, “কেউ প্যানিক করবেন না। গুজব ছড়াবেন না। সতর্ক থাকুন।”

RELATED Articles

Leave a Comment