একুশে জুলাই উপলক্ষে করোনা বিধি শিকেয় তুলে প্যান্ডেল বেঁধে ভুরিভোজ, বিপাকে তৃণমূল কাউন্সিলর

যতই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ ভার্চুয়াল সমাবেশে গর্জন করে উঠুন না কেন তাঁর দলের লোকজনই যে তাঁর নাম ডোবাচ্ছে এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই, মত বিরোধীদের। ধুলিয়ান পুরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আজকে যা করলেন তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

করোনা-লকডাউন এসবের তোয়াক্কা না করেই মঙ্গলবার কর্মীদের নিয়ে ভুরিভোজের আয়োজন করলেন ওই বিদায়ী কাউন্সিলর ও তাঁর স্বামী। যা নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। এই করোনা বিধি ও লকডাউনের জন্যই ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ে আজকে তৃণমূল সমাবেশ আয়োজন করেনি সেখানে দলেরই একজন কাউন্সিলর দলের লোকজনদের করোনা বিধির তোয়াক্কা না করে ভুরিভোজ করাচ্ছেন!

জানা গিয়েছে, বিদায়ী কাউন্সিলর রুবেদা বিবি ও তাঁর স্বামী প্রাক্তন কাউন্সিলর শাজাহান মহালদার একুশে জুলাই উপলক্ষ্যে বাড়ির সামনে প্যান্ডেল করেন। সেখানে বসেই খিচুড়ি, তরকারি খাওয়ানো হয় দলের কর্মীদের। ভুরিভোজ সারতে সারতেই জায়ান্ট স্ক্রিনে তৃণমূল সুপ্রিমোর বক্তব্য শোনেন দলের কর্মীরা।

একুশে জুলাই উপলক্ষে করোনা বিধি শিকেয় তুলে প্যান্ডেল বেঁধে ভুরিভোজ, বিপাকে তৃণমূল কাউন্সিলর

অনেকেই দাবি করছেন যে এখানে কোন রকম সামাজিক দূরত্ব বিধি মানা হয়নি। এদিকে এই ঘটনা প্রকাশ্যে চলে আসতেই প্রবল বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিদায়ী কাউন্সিলরের এই আচরণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। যদিও বিতর্ক শুরু হলেও এতে যে ওই বিদায়ী কাউন্সিলর এবং তাঁর স্বামীর কোনরকম হেরফের পড়েনি তা তাদের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট। ওই কাউন্সিলারের স্বামী শাজাহান মহালদারও একজন প্রাক্তন কাউন্সিলর। ‌তাঁর সাফাই, “মুখ্যমন্ত্রীর ঐতিহাসিক বক্তব্য কর্মীদের শোনানোর জন্য এই আয়োজন। প্রত্যেকের শরীর স্যানিটাইজ করেই অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হয়েছে। দেওয়া হয়েছে মাস্কও।”

প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদে করোনা সংক্রমণ হুহু করে বেড়ে চলেছে। সোমবার পর্যন্ত মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ব্লকে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ জন। ধুলিয়ান পুরসভায় ২১ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩। এদিকে ধুলিয়ান পুরসভার ৫,৬,৭, ১০ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষনা করা হয়েছে। ফলে সেখানে জারি রয়েছে কড়া লকডাউন।

RELATED Articles

Leave a Comment