হুঁশিয়ারিই সার, শিকেয় করোনা বিধি, তুমুল জনসমাগমে উদযাপিত গণতন্ত্রের উৎসব, বদলাবে না তো মৃত্যুর উৎসবে?

দেশে গত বছর এই সময় সবকিছু থমকে গিয়েছিলো। করোনার জেরে লকডাউন মহামারীর ভয়াবহতা বুঝিয়েছিল। এ বছরও পরিস্থিতি এক বরঞ্চ বলা যেতে পারে কিছুটা বেশিই ভয়ানক। কিন্তু যে সচেতনতা গতবছর কিছুমাত্র দেখা গিয়েছিল তা এবছর প্রায় শিকেয় উঠেছে। গত বছর ছিল না কোন‌ও নির্বাচন প্রক্রিয়া। তবে বিহার বিধানসভায় নির্বাচন হয়েছিল।

এই বছর একসঙ্গে পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হয়ত বাংলায়। একেতো সর্বোচ্চ দফায় নির্বাচন। অন্যদিকে বিপুল জনসমাবেশ সভা-সমিতি লেগেই রয়েছে। বাংলা জিততে হবে। হুঁশ নেই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরও। আর তাই তো কাল আসানসোলে বিশাল জনসভা করে গেলেন তিনি। ক্ষমতার লোভ যে বড় বালাই। আর তাই তো এখন উদযাপন হচ্ছে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব।

আরও পড়ুন-অভিনব উদ্যোগ! গুজরাটের মন্দিরে তৈরি হল ৫০০ বেডের অস্থায়ী কোভিড হাসপাতাল

পশ্চিমবঙ্গে চলছে আট দফার ভোট। যার মধ্যে শনিবার শেষ হয়েছে পঞ্চম দফার ভোট। বুথে বুথে যে ছবির দেখা মিলেছে তা কপালে ভাঁজ খেলছে বাংলার আমজনতার।

বঙ্গে ভোটের জাঁকজমকের মধ্যে চাপা পড়েছে করোনার বীভৎসতা। ক্রমশ কঠিন হচ্ছে কোভিড পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় আট হাজার ছুঁইছুঁই। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চম দফার বুথে বুথে কোভিড বিধি ভঙ্গের চিত্রই প্রকট হল। সামাজিক দূরত্ব বিধি দূরে, তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে না, মাস্ক বিধিতেও অনিয়ম। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনে দিয়েই হুড়মুড়িয়ে ঢুকছেন ভোটাররা। নেই কোন‌ও বাধা।

কামারহাটিতে সকাল সাড়ে ৯টায় সাগর দত্ত হাই স্কুলে দেখা গেল মুখে নয়, হাতে মাস্ক ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে রাজ্য পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনে দিয়ে ‘সদর্পে’ বুথে ঢুকছেন কিছু ভোটার। পুলিশরা তথ্য ও পরিচয়পত্র দেখলেও মাস্ক না থাকা নিয়ে কোনও প্রশ্নই করলেন না। এক কনস্টেবলের কথায়, আমার কাজ হল ভোটারদের প্রতি নজর রাখা এবং বুথের দিক নির্দেশনা দেওয়া। মাস্ক নিয়ে কিছু বলতে বলা হয়নি।”

বেশিরভাগ বুথেই নেই কোনও তাপমাত্রা মাপার ডেস্ক। বুথের ভিতরে চক দিয়ে সামাজিক দূরত্ব করা থাকলেও তা মানছে কে! একজন ভোটারের কথায়, “আমরা মাস্ক পরে এসেছি। ভিতরে শুধু গ্লাভস দিচ্ছে। কেউ তা পরতে অস্বীকার করলে আর জোর করা হচ্ছে না। অনেক আধিকারিকদের মুখেও তো মাস্ক নেই।”

আরও পড়ুন- ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি! করোনার থাবা থেকে রেহাই নেই শিশুদেরও, আক্রান্ত হচ্ছে সদ্যোজাতরাও 

প্রসঙ্গত, করোনাকালের নির্বাচনী বাংলায় ভোট গ্রহণের সময় কঠোর কোভিড বিধি ঘোষণা করেছিল কমিশন। রাজনৈতিক প্রচার থেকে জনসমাগম, বুথে বুথে নজরদারী।

দু’দিন আগেই করোনা নিয়ে ফের রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু নির্বাচনী চিত্র অন্য কথাই বলছে। মারাত্মক আকার ধারণ করছে কোভিডও। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন বাংলায় দৈনিক করোনা আক্রান্ত পেরোতে চলেছে ১০ হাজার। নির্বাচন-পরবর্তী বাংলার করোনা পরিস্থিতিতে ঠিক কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা হয়তো আর বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। গণতন্ত্রের উৎসব যেন‌ও মৃত্যুর উৎসবে না বদলে যায়।

RELATED Articles