করোনা কালে চিকিৎসক তো বটেই, তাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কিন্তু সেই স্বেচ্ছাসেবকরাই এখন কাজ হারিয়েছেন। কাজ হারিয়ে এবার স্বাস্থ্য ভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে দেখা গেল তাদের।
আজ, শুক্রবার প্রচণ্ড গরমকে উপেক্ষা করেও এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। বিক্ষোভ চলাকালীন অসুস্থও হয়ে পড়েন দু’জন। সম্প্রতি, স্বাস্থ্য ভবনের তরফে এই কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। আর এই কারণেই কাজ হারিয়ে শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভের পথ বেছে নেন তারা। এই ছুটির ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবী তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
স্বেচ্চাসেবকদের বক্তব্য, অতিমারির সময় যখন এক ভয়ানক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সময় করোনা হাসপাতালের ওয়ার্ডে ঢুকতে ভয় পাচ্ছিলেন সবাই। কিন্তু সেই সময় লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন এই স্বেচ্ছাসেবকরা। তাহলে এখন কেন তাদের এভাবে কাজ ছাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে? প্রয়োজন ফুরোতেই তাদের এভাবে ঝেড়ে ফেলে দিল রাজ্য সরকার?
করোনা অতিমারির শুরু থেকেই রোগীদের পাশে থেকেছেন এই স্বেচ্ছাসেবকরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই তাদের নিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে রাজ্যের প্রতিটি থানা এলাকা থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োগ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতোই জেলায় জেলায় নিয়োগ করা হয় স্বেচ্ছাসেবক। তবে এই কোভিড ভলান্টিয়ার নিয়োগ ছিল অস্থায়ী ভিত্তিতেই।
করোনা পরিস্থিতিতে ভয়াবহ আকার সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন এই স্বেচ্ছাসেবকরা। কিন্তু করোনার আঁচ খানিক কমতেই এবার তাদেরও গুরুত্ব কমেছে। স্বাস্থ্য ভবন থেকে নির্দেশিকা জারি করে স্বেচ্ছাসেবকদের ছুটি দিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
আর হঠাৎ এভাবে কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই স্বেচ্ছাসেবকরা। এহেন অবহেলায় শেষমেশ বিক্ষোভের পথেই নেমেছেন তারা। রাজ্য সরকারের তরফে তাদের ছুটি দিয়ে দেওয়ার যে ঘোষণা করা হয়েছে, তা যাতে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, তেমনই দাবী তুলেছেন তারা।





