আইনমন্ত্রীর কাছে আর্থিকভাবে দুর্বল আইনজীবীদের জন্য সহায়তার আবেদন পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিল-এর

করোনার প্রতিরোধে এখন দেশজুড়ে লকডাউনের নির্দেশ জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর এই চলতি লকডাউনে বন্ধ রয়েছে অফিস আদালত। তার ফলস্বরূপ অনেক আইনজীবীরা এবং জুনিয়ার এডভোকেটরা এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সহ সভাপতি শ্রী সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় সোমবার জানান, “অর্থ উপার্জনের দুশ্চিন্তায় আইনজীবীরা দিনে দিনে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছেন।”

তিনি আরও জানান, তিনি রাজ্যের আইনমন্ত্রীকে এই বিষয়ে অবগত করেছেন এবং সাহায্য চেয়ে একটি চিঠি লিখেছেন। তিনি বলেন, “আমি শুধু আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া আইনজীবীদের জন্যই নয় উপরন্তু করোনোয় যদি কোনো আইনজীবী আক্রান্ত হন তার জন্যেও ৫০,০০০ টাকার আর্থিক সাহায্য চেয়েছি আইনমন্ত্রী মলয় ঘটকের কাছে।”

তিনি জানান তিনি এই সমস্যাটিকে পরবর্তী বার কাউন্সিলের বৈঠকে বিষয়টি তুলবেন যাতে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া আইনজীবীরা এককালীন সহায়তা পেতে পারেন। “আমরা সরকারের কাছে একটা প্রস্তাব রাখব যাতে তাঁরা ১৫ বছর বা তার কম সময় ধরে কর্মরত আইনজীবীদের একটা অঙ্কের সহায়তা করেন এবং ১৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাযুক্ত আইনজীবীদের আর একটি অঙ্কের সহায়তা প্রদান করেন।”

তিনি বলেন এই সাহায্য পশ্চিমবঙ্গ এডভোকেট ওয়েলফেয়ার ফান্ড ট্রাস্ট এর সদস্যবর্গদের দেওয়া হবে। যে ট্রাস্টের সভাপতি হলেন আইনমন্ত্রী।

কলকাতা হাইকোর্টের একজন কর্মরত আইনজীবী অনিন্দ্য সুন্দর দাস জানান, ‘শুধু জুনিয়র এডভোকেটরাই নন আরো কিছু আইনজীবীরা রয়েছেন, যারা অনেক বছর ধরে কাজ করেও তেমন অর্থ আয় করতে পারেননি যা দিয়ে তারা স্বাচ্ছন্দ্যভাবে এই সংকটময় পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারবে। তাই তাদের জন্যও যেন বার কাউন্সিলের তরফ থেকে আর্থিক কিংবা অন্য কোনো সহায়তার আর্জি জানানো হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘রাজ্য সরকার ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ আইন পরিষদ এই আইনজীবীদের সাহায্যে এগিয়ে আসবেন।’ ওনার পাশাপাশি ওপর একজন হাইকোর্টের কর্মরত আইনজীবী উদয় শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন , ‘শুধু আইনজীবীরাই নন এই আদালতের সাথে যুক্ত বাকি কর্মীরা যেমন ক্লার্ক, টাইপিস্ট, এবং অন্যান্য স্টাফরাও এই লকডাউনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই আইনজীবীদের পাশাপাশি তাদের জন্য যেনো সরকারের তরফ থেকে সাহায্যের ব্যবস্থা করা হয়।’

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট-এর এক আইনজীবী অনিন্দ্য রাউৎ বলেন, ‘একদিকে তারা যেমন নিজেদের জীবিকার কথা ভাবছেন তেমনি অন্যদিকে তাদের উচিত এই লকডাউনের সময় সরকারের নির্দেশগুলো মেনে চলা। শনিবার কলকাতা হাইকোর্ট একটি নোটিস জারি করেছেন যেখানে বলা হয়েছে এবার থেকে ভিডিও কনফারেন্সে পিটিশন গুলির শুনানি হবে। করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় এখন স্বাভাবিক ভাবেই কোর্ট বন্ধ থাকবে। কিন্তু কোর্টের কাজ করে যেতে হবে তাই এই পন্থাই এখন অবলম্বন করতে হবে। শুধু মাত্র জরুরি কেস ফাইলগুলির জন্য ভিডিও কনফারেন্সে শুনানির ব্যবস্থা হবে। দেশে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের পরে উচ্চ আদালত ১৫ই মার্চ থেকে কেবলমাত্র জরুরি বিষয়গুলির শুনানি করে আসছিল।

প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণন ২৪ শে মার্চ নির্দেশ দিয়েছিলেন যে সারা দেশে নোভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং জলপাইগুড়ির উচ্চ আদালত এবং জেলা আদালতগুলির সার্কিট বেঞ্চগুলি ২৫শে মার্চ থেকে ৯ই এপ্রিল পর্যন্ত সব শুনানি স্থগিত থাকবে।

RELATED Articles

Leave a Comment