এমনিতে দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে কোনও ভাব আদানপ্রদান হয়না। একে অপরকে সবসময়ই আক্রমণ করতেই দেখা যায়। কিন্তু চাঁদা চাইতে সেই তৃণমূলের দুয়ারেই হাজির হল সিপিএম। তবে সিপিএম নেতাকে ফেরালেন না তৃণমূল নেত্রী। যথাসাধ্য আর্থিক সাহায্য করলেন তিনিও। এমনই সৌজন্যের রাজনীতির সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি।
রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলির তুলনায় জলপাইগুড়ির রাজনৈতিক পরিবেশ একবারেই অন্যরকম। ভোটের সময় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকলেও ভোট মিটে গেলে এই জেলায় তা তেমন থাকে না। সাধারণ মানুষ তো বটেই, এর পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেও পারস্পরিক সম্পর্ক খুব ভালো এই জেলায়। আর নজিরই ফের একবার দেখা গেল পাতকাটা এলাকায়।
সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। গ্রামেগঞ্জের বাসিন্দাদের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়াতে, তাঁদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে সারা ভারত কৃষক সভার সংগঠনের পক্ষ থেকে পদযাত্রা-সহ একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে। এই কর্মসূচিগুলিকে বাস্তবায়িত করার জন্যই আর্থিক সাহায্য সংগ্রহ করছে বামেরা। এর পাশাপাশি তাদের নানান দাবী সম্মিলিত লিফলেট বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা।
গতকাল, বুধবারও তেমনই কোনও এক কর্মসূচি ছিল। এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন সিপিএমের প্রাক্তন সাংসদ জীতেন দাস। চাঁদা সংগ্রহ করতে করতেই তিনি যান তৃণমূল পরিচালিত পাহাড় পুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অনিতা রাউতের বাড়ি। তবে সিপিএম নেতাদের ফেরান নি তৃণমূল নেত্রী। আর্থিক সাহায্য করেন তিনি।
এই বিষয়ে অনিতা রাউত বলেন, “ওঁরা আমার বাড়ি এসে আমাকে লিফলেট দিয়ে আর্থিক সাহায্য চাইলেন। আমি আমার সাধ্যমতো সাহায্য করলাম”।
এই ঘটনা সম্পর্কে জীতেন দাস বলেন, “আমরা সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক গন সাহায্য সংগ্রহ করছি। আমরা সমস্ত বাড়িতে যাচ্ছি। মানুষ আমাদের সাহায্য করছে। আমরা অনিতার বাড়িতেও গিয়েছিলাম। জানতাম না ওঁ প্রধান। কিন্তু ওঁ হাসিমুখে আমাদের আর্থিক সাহায্য করেছেন। খুব ভালো লাগল। মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেও পারস্পরিক সম্পর্ক খুব ভালো”।





