সিপিএমের ভোটের জেরেই নির্বাচিত তৃণমূলের উপপ্রধান, লাল-সবুজের নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ, পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনে চাঞ্চল্য অণ্ডালে

সিপিএম ভোট দেওয়ার জেরেই নির্বাচিত হল তৃণমূলের উপপ্রধান। লাল-সবুজের অন্যতম রাজনৈতিক সমীকরণের সাক্ষী থাকল অণ্ডাল। তবে তৃণমূল জানিয়েছে, উপপ্রধান পদে নির্বাচিত হলেও, তাঁকে আর দলে রাখা হবে না। পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনে প্রবল চাঞ্চল্য ছড়াল অণ্ডাল ব্লকের খান্দরা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পদ নিয়ে।

কী ঘটল গোটা ঘটনাটি?

সদ্য সমাপ্ত হওয়া পঞ্চায়েত নির্বাচনে খান্দরা পঞ্চায়েতে ২৩টি আসনের মধ্যে ২০টি আসনে জয় হয় তৃণমূল। বাকি ৩টি আসন পায় সিপিএম। আজ, বৃহস্পতিবার বোর্ড গঠনের সময় প্রধান পদের জন্য দলের তরফে যে নাম অনুমোদিত হয়েছে, তাঁকেই সমর্থন করেন বাকি পঞ্চায়েত সদস্যরা। কিন্তু গোল বাঁধে উপপ্রধানের নাম নিয়ে।

দলের তরফে উপপ্রধানের পদের জন্য আশিস ভট্টাচার্যের নাম অনুমোদন করা হয়। কিন্তু সেই নামের বিরোধিতা করেন সিপিএম সদস্যরা। অন্যদিকে, তৃণমূলেরও অনেকেই আশিস ভট্টাচার্যের নামের বিরোধিতা করেন। ফলে সিপিএমের ৩ সদস্য আশিসের বিরোধীদের সঙ্গে জোট বাঁধেন। এর জেরে উপপ্রধান পদ নিয়ে দলের মধ্যেই ভাগাভাগিহ্যে যায়।

তৃণমূলের ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১০ জন ছিলেন আশিস ভট্টাচার্যের পক্ষে। আর বাকি ১০জন ছিলেন বিরুদ্ধে। এমন সময় সিপিএমের তরফে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য গণেশ বাদ্যকরের নাম প্রস্তাব করা হয় উপপ্রধান পদের জন্য।

তৃণমূলের প্রস্তাবিত উপপ্রধান পদে আশিস ভট্টাচার্যকে যাতে না বসানো হয়, সেই কারণে আশিসের বিরুদ্ধে গিয়ে গণেশ বাদ্যকরকে ভোট দেন সিপিএমের ৩ সদস্য। ব্যস, বেশিরভাগ ভোট যায় গণেশ বাদ্যকরের দিকে। ১৩-১০ ভোটে সিপিএমের সমর্থনে উপপ্রধান পদে জিতে যান তিনি। অন্যদিকে, সিপিএমের কাছে দলের মনোনীত নাম পরাজিত হওয়ায়, দলের বৃহত্তর অংশ বেশ চটে যায়।

কী জানাচ্ছে তৃণমূল?

এই বিষয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, “দলবিরোধী কাজ করেছেন উপপ্রধান। দলের প্রস্তাবিত প্রার্থীকে হারাতে সিপিএমের সাহায্য নিয়েছে। উপপ্রধান হলেও তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে”। 

অন্যদিকে, খান্দরা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান পদে তৃণমূলের প্রার্থীকে সিপিএমের সমর্থন প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। ঘটনার সত্যতা থাকলে দল ব্যবস্থা নেবে। আমাদের কাছে তৃণমূল ও বিজেপি উভয়েই রাজনৈতিক শত্রু”।

RELATED Articles