আমফানের তাণ্ডবে তছনছের পথে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। বহু এলাকায় নদীবাঁধে ফাটল ধরতে শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে পাথরপ্রতিমার এক স্থানে বাঁধ ভেঙে গ্রামে জল ঢুকতে শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি এমনই ভয়াবহ যে বহু এলাকায় গাছ ভেঙে পড়েছে, এমনকি কয়েকটি কাঁচা বাড়িও ভেঙে পড়েছে। ঝড়ের কবলে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে গোটা এলাকাতে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। শুধুমাত্র গোসাবা ও কুলতলি থেকে প্রায় ৬০ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে আনা হয়েছে। ঝড়ের এই পরিস্থিতির উপরে সর্বক্ষণ নজরদারি রাখছে প্রশাসন। এমনকি প্রস্তুত রয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল।
ঘূর্ণিঝড় আমফান ল্যান্ডফল হতে সবে শুরু করেছে। খবর পাওয়া গেছে ঘূর্ণিঝড় সাগরে ঢুকেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুসারে, বুধবার বিকেল ৪টে নাগাদ সময় আলিপুরে ঝড়ের গতিবেগ প্রতি ঘণ্টায় ১০৫ কিমি ছিল।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি, বাসন্তি, গোসাবা ব্লকের বিভিন্ন স্থানে নদী বাঁধে ফাটল এবং সেখান দিয়ে জল ঢোকার পরিস্হিতি দেখা দিয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গোসাবার ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে ৫০ হাজার মানুষকে এবং কুলতলি থেকে ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনেছে, বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
পাথরপ্রতিমার উত্তর গোপালনগরে নদীবাঁধ ভেঙে গিয়েছে। যার জেরে নদীর জল ঢুকতে শুরু করেছে বিস্তীর্ণ এলাকায়। নদী বাঁধে ভাঙন ধরার খবর এসেছে ঝড়খালির বিরিঞ্চিবাড়ি এলাকা থেকে। প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে বাসন্তীতে রাস্তার উপর ভেঙে পড়েছে গাছ। ফ্রেজারগঞ্জ থেকেও ক্ষয়ক্ষতির খবর আসতে শুরু করেছে। মথুরাপুরে ঝড়ের তাণ্ডবে কয়েকটি কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়েছে। কাকদ্বীপে বেশ কিছু কাঁচাবাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে বলে খবর। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। রাজ্যে প্রবেশের পর থেকে প্রবল তান্ডব চালাচ্ছে আমফান।





