এখনো বাংলাতে সেই অর্থে প্রবেশ করেনি ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। কিন্তু এর মধ্যেই সে তার তাণ্ডবলীলা দেখাতে শুরু করে দিয়েছে। এরই মধ্যে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গাছ পড়া থেকে শুরু করে ঘর-বাড়ি ভাঙা শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতার অন্তত ১৮টি জায়গায় গাছ পড়ে গিয়েছে। আর সেই গাছ রাস্তা থেকে সরানোর কাজে লেগে পড়েছেন পুরকর্মীরা।
নবান্নে সর্বক্ষণ অভিভাবিকার মতো রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই খবর যখন তার কাছে পৌঁছায় তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কর্মীরা আগে যেন নিজেদের প্রাণ বাঁচান গাছ পরে কাটা যাবে।
কলকাতার পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম নিজেও বলেছেন, ‘কলকাতাতে গাছ এবং বিপজ্জনক বাড়ি সবচেয়ে বেশি চিন্তার। এখনও পর্যন্ত ১৮ টি জায়গা থেকে গাছ পড়ার খবর পেয়েছি।’
ফণী, বুলবুলের পর আম্ফান। এক দিকে করোনার দুর্যোগ, তার উপর অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়। সবমিলিয়ে বিপর্যস্ত ভারত, বিপর্যস্ত বাংলা। এই পরিস্থিতিতে গত প্রায় দু’মাস ধরে কোভিড-পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিককে বাড়ি ফেরাতেও উদ্যোগী হয়েছেন। তার মধ্যেই আম্ফানের চোখরাঙানি। সেই দুর্যোগ মোকাবিলাতেও সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীই। মঙ্গলবার নবান্নে বিভিন্ন জেলার ডিএম, এসপি, গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলির মন্ত্রী, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে আম্ফান মোকাবিলায় ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক করেছেন মমতা। আর আজ বুধবার নবান্ন থেকে দুর্যোগ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে রাতও জাগবেন সেখানেই।
সাংবাদিকদের তিনি সামলাচ্ছেন একজন প্রকৃত অভিভাবিকার মতই। মঙ্গলবাড়ী তিনি বলেছিলেন, ‘নবান্নে থাকা সাংবাদিকদেরও মুখ্যমন্ত্রীর অভিভাবকসুলভ পরামর্শ, ‘বাড়ির লোককে বলে আসবেন। নবান্নে এসে আর বেরোবেন না। রাতে থাকার জন্য আলাদা জামাকাপড়ও নিয়ে আসবেন।’
এদিন দুপুরের আগেই নবান্নে পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কন্ট্রোল রুমে বসে প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছেন পরিস্থিতির উপর। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই শামপুকুর থানার উদ্যোগে ঝুপড়িবাসীদের কমিউনিটি হলে নিয়ে আসা হয়েছে।





