দিল্লিতে ধুন্ধুমার! লোকসভা ভোটের আগে ফের চাঞ্চল্য, তৃণমূলের ধর্না থেকে ডেরেক, শান্তনু-সহ ১০ জন নেতাকে আটক করল পুলিশ

সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এর আগে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিই চেষ্টা করে যাচ্ছে একে অপরকে ছাপিয়ে যেতে। একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে কসুর করছে না তারা। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ধর্নায় বসেন ১০ জন তৃণমূল (TMC) নেতা। পুলিশ সেই ধর্নায় ভঙ্গ দিয়ে তাদের প্রিজন ভ্যানে তোলে বলে খবর।

কী ঘটেছিল এদিন?

কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে বিজেপি, এই অভিযোগ তৃণমূলের নতুন নয়। এই অভিযোগেই আজ, সোমবার দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসে দেখা করতে গিয়েছিলেন শান্তনু সেন, ডেরেক ও ব্রায়েন, দোলা সেন-সহ ১০ জন তৃণমূল সদস্যের প্রতিনিধি দল। এদিন কমিশনের কর্তাদের সঙ্গে দেখা করে সেখান থেকে বেরিয়ে কমিশনের সামনেই ধর্নায় বসে পড়েন তৃণমূল নেতানেত্রীরা।

সেখানে তারা ২৪ ঘণ্টার ধর্নায় বসবেন বলে জানান। কেন্দ্রীয় এজেন্সির প্রধানদের বদলির সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে তারা ধর্না চালিয়ে যাবেন বলে হুঁশিয়ারিও দেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হয় দিল্লি পুলিশ। ধর্না তুলে নিতে বলা হয় তৃণমূল নেতাদের। কিন্তু তারা রাজি হন নি। এরপরই তৃণমূল নেতাদের টেনেহিঁচড়ে সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা করে পুলিশ। ১০ জন নেতানেত্রীকে প্রিজন ভ্যানে তুলে প্রথ, দিল্লি মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।    

আজ, সোমবারই বাঁকুড়ার সভা থেকে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “৪ জুনের পর বলছে সবাইকে গ্রেফতার করবে, জেলে ভরবে। এখনই তো গোটা দেশ জেল হয়ে গেছে। গণতন্ত্রকে জেল বানিয়ে দেওয়া হয়েছে”। আর আজই দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হলেন তৃণমূল নেতানেত্রীরা।

এদিন পুলিশ তৃণমূলের প্রতিনিধিদের আটক করার সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে দোলা সেন বলেন, “মোদীবাবু, অমিত শাহ যদি মনে করে থাকেন সবই তাঁদের জমিদারি। যদি মনে করেন কেন্দ্রীয় এজেন্সগুলি বিজেপিরই একটি প্রতিষ্ঠান। তাহলে তাঁরা ভুল করছেন। আমরা সেটাই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন সমান মাঠে খেলার ব্যবস্থা করুক”।

তবে তৃণমূলের এই দিল্লিতে ধর্না দেওয়ার ঘটনা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “ফটোসেশন করতে গিয়েছে, যাতে মিডিয়া পাবলিসিটি পায়। বাজার খুব খারাপ, মিটিংয়ে লোক হচ্ছে না”।

RELATED Articles