শহরের যানজট কমাতে এবং দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তুলতে মেট্রো প্রকল্প এখন সময়ের দাবি। কিন্তু বাস্তবে বহু প্রকল্পই নানা জটিলতায় আটকে যায়—কখনও প্রশাসনিক কারণে, কখনও আইনি জটের জেরে। চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পও দীর্ঘদিন ধরে এমনই এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। সাধারণ মানুষের আশা-ভরসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই প্রকল্প ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—শেষমেশ এর সমাধান কোন পথে?
এই জট কাটাতে আগে হাইকোর্ট নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ মেনে চলার বদলে রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। ফলে বিষয়টি আরও জটিল রূপ নেয়। একদিকে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনিক ব্যাখ্যা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সোমবার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের নির্দেশে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। বরং মামলাটি তুলে নেওয়ার পরামর্শ দেয় রাজ্যকে। বিচারপতিরা এদিন কঠোর ভাষায় বলেন, জনস্বার্থের প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা উচিত নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে এবং পুরো বিষয়টির তদারকি করবে হাইকোর্ট—এই বার্তাই পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়।
শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কারণ দেখানো হয়—কখনও উৎসব, কখনও পরীক্ষা, আবার কখনও নির্বাচনের প্রসঙ্গ। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি মানতে নারাজ। প্রধান বিচারপতি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, এভাবে বারবার অজুহাত দেখিয়ে উন্নয়নের কাজ থামিয়ে রাখা যায় কি? আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, এই ধরনের আচরণ আসলে দায়িত্ব পালনে গাফিলতিরই পরিচয় দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal assembly election 2024 : “স্ট্রং রুমে নজর রাখুন, কোনও গড়মিল হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিন”—বিতর্ক উসকে মমতার মন্তব্যে চড়ছে রাজনৈতিক পারদ!
সবশেষে আদালত স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেয়—স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা না তুললে তা খারিজ করে দেওয়া হবে। এই অবস্থায় চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এখন রাজ্যের সামনে একটাই পথ খোলা—হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে দ্রুত কাজ শেষ করা। কারণ, এই প্রকল্প আর শুধু একটি নির্মাণকাজ নয়, বরং শহরের হাজার হাজার মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন।





