আউটডোরে লম্বা লাইন, কর্তব্যনিষ্ঠায় বাঁ হাতে স্যালাইন নিয়েই টানা ৬ ঘন্টা রোগী দেখতে ব্যস্ত চিকিৎসক!

যারা রোগীর সেবায় আত্মনিয়োগ করেন তাদের বুঝি নিজেদের শরীর খারাপ হতে নেই? রোগ সারাতে বদ্যির বিকল্প নেই। কিন্তু যারা রোগীকে সুস্থ করার পণ নিয়েছেন তারা জীবনের শেষ নিঃশ্বাস অবধিও রোগীদের পরিষেবা দিয়ে চলেন। বাঁকুড়ার খাতড়া ব্লকের অসুস্থ চিকিৎসক যেন সেই কথাটাই বুঝিয়ে দিলেন নিজের কাজ দিয়ে। এ যেন এক কর্তব্যপরায়ণতার নজির, এক হাতে স্যালাইনের চ্যানেল নিয়ে অন্য হাতে রোগীর প্রেসক্রিপশন লিখে যাচ্ছেন চিকিৎসক সুমন সন্নিগ্রহী।

বাঁকুড়ার খাতড়ার সিমলা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক চিকিৎসক সুমনবাবু। খাতড়া মহকুমা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সিমলা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আউটডোরে ডিউটি ছিল তাঁর। কিন্তু সকালে কাজে যাওয়ার সময়ে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন ডাক্তারবাবু। ডিহাইড্রেশন জনিত সমস্যা বুঝতে পেরে, তাঁকে স্যালাইন দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর একদন্ড বিশ্রাম নেওয়ার সময় নেই। সেই সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আউটডোরে শতাধিক রোগী চিকিৎসার জন্য দাঁড়িয়ে। এরপর বাঁ হাতে স্যালাইন নিয়েই আউটডোরে চিকিৎসকের চেয়ারে বসে যান তিনি। পাড় করে দেন ঘন্টার পর ঘন্টা। একের পর এক রোগী দেখতে দেখতে প্রায় ছ’ঘন্টা ধরে দু’শোর বেশি রোগীর চিকিৎসার উপায় বলেন তিনি। একদিকে, তখনও তাঁর বাম হাতে চলছে স্যালাইন, এবং ডান হাতে এক নাগাড়ে লিখে চলেছেন প্রেসক্রিপশন। তাঁকে এই ভূমিকায় দেখে খুশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করাতে আসা প্রতিটি রোগী থেকে স্বাস্থ্যকর্মী। লকডাউনের আবহে নিজের অসুস্থতাকে দূরে ঠেলে সুমনবাবু পেশার প্রতি যে দায়বদ্ধতা দেখালেন, তার জন্য তাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরাও।

চিকিৎসক সুমনবাবু বলেন, “গত দু’দিন ধরে আমি নাইট ডিউটি করেছিলাম। তারপর শনিবার আউটডোরে ডিউটি পড়েছিল। করোনা সংক্রমণের জেরে এখন আমাদের সর্বদা মাস্ক পরেই কাজ করতে হচ্ছে। এছাড়া গত দু’দিন গরমও ছিল। তাই শনিবার আউটডোরে ডিউটি করতে আসার সময় একটু অসুস্থ হয়ে পড়ি। তবে অসুবিধা বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে স্যালাইন নিই। কিন্তু আউটডোরে এত রোগী দাঁড়িয়ে রয়েছেন দেখে ওই অবস্থায় আমি ডিউটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। দু’শোর বেশি রোগীর চিকিৎসা করেছি”।

ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করাতে এসে অনিমা মণ্ডল, রাখি মণ্ডলরা জানা, “ডাক্তারবাবু এক হাতে স্যালাইন নিয়েও আমাদের ডেকে রোগের কথা শুনে চিকিৎসা করেছেন। ডাক্তারবাবুর এমন কাজে আমরা খুব আনন্দিত।” সিমলার BMOH তথা খাতড়া মহকুমা হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার তাপসকুমার মণ্ডল বলেন, “শনিবার সুমনবাবুর আউটডোরে ডিউটি ছিল। তার আগে সুমনাবাবু অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু তিনি বিশ্রাম না নিয়েই স্যালাইন হাতে রোগীদের চিকিৎসা করতে শুরু করেন। ওনার কর্তব্যপরায়ণতা দেখে আমরাও গর্বিত।”

RELATED Articles

Leave a Comment