একদিকে বইছে উত্তুরে হাওয়া, এর জেরে রয়েছে কনকনে শীত। সেই পৌষমাসের শীতেই উদযাপন হল দুর্গাপুজো। একেবারে ঢাকঢোল বানিয়ে হল মাতৃবন্দনা। তবে শীতে দুর্গাপুজো কেন?
আসলে ইউনেস্কোর তরফে দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই কারণেই দুর্গাপুজোর অকাল বোধনে মাতল রাজপুর সোনারপুরের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড। তৃণমূলের ২৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসে বেশ জাঁকজমক করে পালন করা হল দুর্গাপুজো। তৃণমূল নেতৃত্বের এই উদ্যোগে উন্মাদনা তুঙ্গে সকলের।
রাজপুর সোনারপুরের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে মা দুর্গার প্রতিমা বানিয়ে করা হল দুর্গাপুজো। এই পুজোর নাম দেওয়া হয়েছে অকাল বোধন। এই পুজোতে সামিল হলেন হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান-সহ নানান ধর্মের মানুষ। এদিন এক হয়ে তারা সকলে মাতলেন দুর্গাপুজোতে। একে অপরের হাতে হাত রেখে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তারা প্রতিজ্ঞা করেন যে তারা বাংলার সম্প্রীতিকে কোনওভাবেই নষ্ট হতে দেবেন না।
এই পুজোতে উঠল ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি। ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়’ ও ‘ভারত মাতার জয়’ স্লোগান দিলেন সকলে। পুজোর উদ্যোক্তাদের দাবী, যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার পরিকল্পনা করছে, তাদের বাংলায় কোনও স্থান নেই। এই কারণেই সর্বধর্মের একতাকে উদ্দেশ্য করেই এই দুর্গাপুজোর আয়োজন।
এই কারণেই দুর্গামূর্তি বানিয়ে পুজো করলেন উদ্যোক্তারা। এই পুজোর মূল উদ্যোক্তা হলেন রাজপুর সোনারপুর পৌরসভা ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি সৌরভ প্রধান। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বক্তব্য তাঁর।
উল্লেখ্য, ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে দুর্গাপুজোকে। ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল হেরিটেজের স্বীকৃতি পেয়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। গত ১৩ থেকে ১৮ই ডিসেম্বর পর্যন্ত প্যারিসে আয়োজিত হয়েছিল ইন্টারগভর্মেন্ট অধিবেশন। এই অধিবেশনেই দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।
এই সংস্থার ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়, “দুর্গা পুজাকে ধর্ম ও শিল্পের সর্বজনীন মিলন ক্ষেত্রের সর্বোত্তম উদাহরণ হিসাবে দেখা হয় এবং সহযোগী শিল্পী ও ডিজাইনারদের জন্য একটি সমৃদ্ধ ক্ষেত্র হিসাবে দেখা হয়। এই উৎসব শহুরে এলাকায় বড় আকারের পালিত হয় এবং মণ্ডপগুলির পাশাপাশি রয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢাক এবং দেবীর পূজা”।





