রেশন দুর্নীতি নিয়ে আরও তৎপর ইডি। এবার এই দুর্নীতির নাগাল পেতে সল্টলেকের অরণ্য ভবনে হানা দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। বন দফতরে বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘরে তল্লাশি চলছে বলে খবর। রেশন দুর্নীতিতে আপাতত হেফাজতে বালু। গত অক্টোবরে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে।
রেশন দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই ইডি চার্জশিট পেশ করেছে। সেই চার্জশিটে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বাকিবুর রহমানের নাম রেশন দুর্নীতির নথি ও তথ্যের খোঁজে অরণ্য ভবনে হানা দিয়েছে ইডি, এমনটাই সূত্রের খবর। আজ, মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৫ মিনিট নাগাদ সল্টলেকের অরণ্য ভবনে হাজির হন ইডি আধিকারিকরা। অরণ্য ভবন ঘিরে রাখে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর ইডি আধিকারিকরা সোজা চলে যান ৯ তলায় বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘরে।
কিন্তু রেশন দুর্নীতির মামলায় হঠাৎ কেন অরণ্য ভবনে কেন ইডি?
রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট পেশ করেছে ইডি, সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, ২০২৩ সাল পর্যন্তও রেশন নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। এদিকে, ২০২১ পর্যন্ত খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। পরে বদলি হয়ে বনমন্ত্রী হন। ইডির দাবী, বনমন্ত্রী হওয়ার পর অরন্যভবন থেকে দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপ করেছেন তিনি। সেই কারণেই তল্লাশি।
তল্লাশি নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে
সেগুলি হল- ১. জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দফতর বদলের পরেও যদি খাদ্য দফতরে দুর্নীতি চলে, তাহলে কি বর্তমান খাদ্যমন্ত্রীও এই দুর্নীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল? ২. দফতর বদলের পরও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কী তাহলে অরণ্যভবনের দফতর থেকেই খাদ্য দফতরের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন?
ইডির পেশ করা চার্জশিট অনুযায়ী, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাত ধরে সরকারি কোষাগার থেকে ৪৫০ কোটি ৩১ লাখ টাকা তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী বাকিবুর রহমানের সাজানো ভুয়ো কৃষকদের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। বাকিবুর তাঁর সংস্থার ৫০ জন কর্মীকে কৃষক হিসাবে দেখিয়েই অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। ধান কেনাবেচার নামে ওই ভুয়ো অ্যাকাউন্টগুলিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল এসেনসিয়াল কমোডিটি সাপ্লাই কর্পোরেশন লিমিটেডের তহবিল থেকে ৪৫০ কোটি ৩১ লাখ টাকা পাঠানো হয় বলে জানা গিয়েছে।





