‘যা তা ভাবে টাকা নিচ্ছে মানিক’, পার্থর মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে মিলল এই মেসেজ, চার্জশিটে জানাল ইডি, কীসের এত লেনদেন?

টেট নিয়োগ দুর্নীতি (TET scam case) কাণ্ডে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান মানিক ভট্টাচার্যকে (Manik Bhattacharya) জেরা করেছে ইডি। তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করলেও কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে মানিক ভট্টাচার্যের ভূমিকা যে ইডির নজরে রয়েছে, তা চার্জশিট (chargesheet) থেকেই স্পষ্ট।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে জেরার পর এসএসসি নিয়োগ কাণ্ডে ৫৮ দিন পর আদালতে চার্জশিট পেশ করল ইডি। আর সেই চার্জশিট থেকে বেশ স্পষ্ট যে মানিক ভট্টাচার্যকে নিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে বেশ জেরা করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ফোন বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি। সেই মোবাইল থেকেই মানিক ভট্টাচার্যের নাম মিলেছে। মোবাইলে মানিকের নাম ল’ নামে সেভ করা রয়েছে পার্থর ফোনে।

ওই মোবাইলে দেখা গিয়েছে, ২০২০ সালের ১২ ডিসেম্বর পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মানিক ভট্টাচার্য প্রাইমারি টেটের ইন্টারভিউর ব্যাপারে মেসেজ করে লিখেছিলেন, ‘দশ মিনিট দিস কাল বাড়ি যাব’। এর জবাবে পার্থ লেখেন ‘ওকে’। এরপর দেখা যায় ২০২১ সালের ১০ জানুয়ারি মানিক ফের পার্থকে ফের মেসেজ করেছেন, “ইন্টারভিউ স্টার্টেড অল ওভার দ্য স্টেট”। এর জবাবে পার্থ লিখেছেন, ‘থ্যাঙ্কস’।

এই মেসেজ দেখিয়েই পার্থকে প্রশ্ন করেছে ইডি। টেটের ইন্টারভিউর ব্যাপারে কেন ঘন ঘন মানিক ভট্টাচার্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয় পার্থর কাছে। এর জবাবে তিনি বলেছেন যে মানিক প্রাইমারি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। আর সেই কারণেই যোগাযোগ করেছেন তিনি।

পার্থ একথা বলার পরক্ষণেই ইডি তাঁকে অন্য একটি টেক্সট মেসেজ দেখায়। সেই মেসেজ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মোবাইলেই এসেছিল। প্রেরকের নাম অবশ্য চার্জশিটে লেখেনি ইডি। সেই মেসেজে লেখা ছিল, “দাদা মানিক ভট্টাচার্য ইজ টেকিং মানি যা তা ভাবে। কোভিডের সময়ে প্রাইভেট কলেজগুলো থেকে ছাত্রপিছু ও ৫০০ টাকা করে নিয়েছে। ছাত্ররা দিতে না পারলে কলেজকে ধমকি দিয়েছে তাদের হয়রান করছে। নদিয়ায় টেটের ইন্টারভিউ শেষ হয়েছে। কিন্তু ও চেয়ারম্যানকে বলেছে, ফাঁকা সাইন করা ডকুমেন্ট মাস্টার শিট জমা দিতে। ইন্টারভিউর কোনও নম্বর লিখতে মানা করছে। আবার ও টাকা নিয়ে করবে, আবার কেস হবে। আবার পার্টি খাস্তা হবে। প্লিজ এটা দেখুন। লাভ”।

‘যা তা ভাবে টাকা নিচ্ছে মানিক’, পার্থর মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে মিলল এই মেসেজ, চার্জশিটে জানাল ইডি, কীসের এত লেনদেন?

এই মেসেজ দেখিয়েই পার্থকে ফের প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে ইডি আধিকারিকরা। পার্থকে প্রশ্ন করা হয় যে মানিক কেন তাঁকে মাস্টার শিট ফাঁকা রাখতে বলেছিলেন, কারণ সেটা বেআইনি। ইন্টারভিউয়ের নম্বর বসাতে কেন বারণ করা হয়েছিল চেয়ারম্যানকে, তাও জিজ্ঞাসা করা হয়।

এই চার্জশিটে ইডি জানায় যে পার্থ এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দেন নি। তিনি এই প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। পার্থ ইডি আধিকারিকদের জানান যে তিনি একথা বলতে পারবেন না। এই বিষয়ে প্রাইমারি বোর্ড বলতে পারবে।

RELATED Articles