আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য উত্তাল। আজ, সোমবার দুপুর ২টোর থেকে সুপ্রিমকোর্টে রয়েছে এই মামলার শুনানি। তার আগেই এই ঘটনা নিয়ে সামনে এল বড় এক অভিযোগ। আর সেই অভিযোগের জেরে যে মামলার মোড় ঘুরতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। আজ সিবিআই স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেশ করবে শীর্ষ আদালতে। সেই রিপোর্ট সম্পর্কে কিছু জানা যায় কী না, এখন সেদিকেই মুখিয়ে সকলে।
সুপ্রিম শুনানির ঠিক আগেই এবার এক বিস্ফোরক দাবী করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবী, আর জি করের সিসিটিভি ফুটেজ নষ্ট করা হয়েছিল। এমনকি, মৃত চিকিৎসকের রক্তের নমুনাও পাল্টে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তিনি এও দাবী করেন, তরুণী চিকিৎসককে একঘরে অত্যাচার করে অন্য ঘরে গিয়ে দেহ রেখে আসা হয়।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বেশ অসন্তোষ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, খুনে অভিযুক্ত এক সিভিক ভলান্টিয়ার, এক পুলিশ আধিকারিক একই জেলে রয়েছে, এমন ঘটনা বিরল। তিনি বলেন, “কী অদ্ভুত, এই ঘটনায় গ্রেফতার সিভিক ভলান্টিয়র। তার সঙ্গে একই জেলে বন্দি টালা থানার ওসি আর সন্দীপ ঘোষ। ভাবতে পারেন আপনি আক্রান্ত হলে কোথায় যাবেন? থানায় তো? অথচ দেখুন থানার ওসিও জেলে। আরজি করের প্রাক্তন মালিকও জেলে। এ ভূ-ভারতে কোথাও নেই”।
এরই সঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনা টেনে তিনি বলেন, “উত্তর প্রদেশে একটা ঘটনা সামনে এলে যোগীজী কী করেন দেখতে পাচ্ছেন। অসমে ঘটেছিল এমন ঘটনা। পুকুরে চুবিয়ে-চুবিয়ে জল খাইয়েছে পুলিশ। মহারাষ্ট্রে আমাদের সরকার। বদলাপুরে রাম নাম সত্য করে দেওয়া হয়েছে ধর্ষকের। আর একটা অদ্ভুত রাজ্যে আমরা বাস করি যেখানে সরকারি হাসপাতালে ৩৬ ঘণ্টা ডিউটির পর ডাক্তার বোনকে রক্ষকের হাতে ধর্ষক হতে হয়”।
তবে রক্তের নমুনা বদল নিয়ে শুভেন্দু যে অভিযোগ করেছেন, তা অবশ্য এখনও প্রমাণিত হয়নি। তবে তরুণী চিকিৎসকের ময়নাতদন্ত নিয়ে যে সিবিআই অসন্তুষ্ট, তা অনেক রিপোর্টেই দাবী করা হয়েছে। তরুণী চিকিৎসকের শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে, তা নিয়েও বেশ সন্দেহ রয়েছে। এই কারণে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক অপূর্ব বিশ্বাসকে বেশ কয়েক দফা জেরা করেছে সিবিআই। এবার সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই কী রিপোর্ট পেশ করে, এখন সেটাই দেখার।





