বসিরহাট কেন্দ্র থেকে ছড়ালো ভুয়ো ভিডিও, অভিযোগের তির বঙ্গ বিজেপির দিকে

একদিকে করোনা সংক্রমণ নিয়ে মানুষ চিন্তিত, তার মধ্যে চলছে ভুয়ো খবর রটানোর নতুন নতুন কৌশল। সারা দেশেরই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলো এখন চরম সংকটে পড়েছেন। কাজকর্ম সব বন্ধ তাই পকেটেও টানাটানি। কিন্তু তাদের এই অবস্থার সুযোগ নিয়ে অনেকেই এখন ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে। আর সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে ভুয়ো খবরও ছড়াচ্ছে বিদ্যুৎ গতিতে। ভুয়ো খবরে যাতে আতঙ্কের সৃষ্টি না হয়, প্রশাসনের তরফে সে ব্যবস্থা করা হলেও এই মহামারী নিয়ে ভুল খবর ছড়ানোতে মানুষ পিছপা হয় না। দিন কয়েক আগেই নুসরত জাহানের সংসদীয় কেন্দ্র বসিরহাটে এইরকমই এক ভুয়ো ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে ‘ক্ষুধার্ত’ জানান, লকডাউনে ২ দিন ধরে তার খাবার জোটেনি। কিন্তু সেই ভিডিও নিয়ে খোঁজখবর করতেই আসল ঘটনা সামনে আসে।

বৃদ্ধের করুণ আর্তনাদ নিয়ে এবার রাজনীতি চলল রাজ্যে। ভিডিওতে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্তি জানিয়ে বলেছিলেন- “মা আমাদের বাঁচান৷ আমাদের একটু দেখুন৷ আমরা দু’দিন ধরে কিছু খাইনি৷ খিদের জ্বালা আমরা সহ্য করতে পারছি না৷ এবার হয় খাবার দিন, নয়তো মৃত্যু দিন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তিনি ওই একই আবেদন জানিয়েছিলেন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান এবং সিপিএম বিধায়ক রফিকুল ইসলামের কাছেও৷

https://twitter.com/WBPolice/status/1251548805880668160

এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় ছিঃ ছিঃ পড়ে যায় সরকারের বিরুদ্ধে ।সমালোচিত হন নুসরতও। এরপরই রাজ্য পুলিশ ঘটনাটির খোঁজ শুরু করেন। সেখান থেকে উঠে আসে কিছু বিস্ময়কর তথ্য। যে বৃদ্ধ ভিডিওতে খাবার না পাওয়ার করুন আর্তনাদ জানান, তিনি আদতে যাত্রাশিল্পী। এপ্রসঙ্গে ওই বৃদ্ধ যাত্রাশিল্পী পুলিশকে জানিয়েছেন, “আমার নাম মোবারক মণ্ডল৷ আমার বাড়ি বেগমপুরে৷ আমার সরকারের প্রতি কোনও অভিযোগ নেই৷ আমি সরকারি রেশনও পাই৷ আমি যাত্রাতে অভিনয় করতাম সেই সুবাদে পাড়ার কয়েকটি ছেলে বলেছিল- কাকা, লকডাউনের মধ্যে খেতে পাচ্ছো না-এরকম একটা অভিনয় করে দেখাও তো! তো আমি দেখালাম৷ সেটাই বোধহয় ওরা পোস্ট করেছিল।” রাজ্য পুলিশের ট্যুইটারে শেয়ার করা হয়েছে ওই ভিডিও।

https://twitter.com/WBPolice/status/1251548990983688192

এই কঠিন পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ প্রশাসন বারবার গুজব ছড়াতে বারণ করছেন। এবং তারপরও ছড়ালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ‘সাজানো’ ভিডিওটি শেয়ার করেই বঙ্গ বিজেপির তরফে দাবি করা হয়, তৃণমূল রেশন লুট করছে। এবার ভুয়ো ভিডিওর অভিযোগে অভিযুক্ত বঙ্গ বিজেপি। তবে কি বিজেপি-র বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হবে নাকি সেক্ষেত্রে ক্ষমতার বলে তারা ছাড়া পেয়ে যাবে? প্রশ্ন এখন এটাই।

RELATED Articles

Leave a Comment