পড়াশোনায় ঘোর আপত্তি বাবার, মাধ্যমিক দিতে দেবে না বলে ঘরে আটকে মা’র’ধ’র, এরপর যা করল মেয়ে…

গতকাল, শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। যে কোনও পড়ুয়ার জন্য এটাই জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে নানান ঘটনার কথা সামনে আসছে। এবার জানা গেল এক ঘটনা যার জন্য এক বড় পদক্ষেপ নিতে হল পড়ুয়াকে।

মেয়ে পড়াশোনা করে, তা পছন্দ নয় বাবার। এমনকি, মেয়ে যাতে মাধ্যমিক না দিতে যেতে পারে, তার জন্য তাকে ঘরে আটকে রাখা থেকে মা’র’ধ’র কিছুই বাদ যায়নি। কিন্তু দমে থাকার পাত্রী তো নয় পড়ুয়া। এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল সে।  

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদে। ফরাক্কার ইমামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের দুর্গাপুরে লাওয়ার হাট এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও পপি বিবি। তাদের চার সন্তান। রফিকুল পেশায় রাজমিস্ত্রি। তাঁর বড় মেয়ে তাহামীরা খাতুন। অভিযোগ, মেয়ের পড়াশোনা করা একেবারেই পছন্দ নয় রফিকুলের। এই পড়াশোনা নিয়ে প্রতিদিন তাক বকাবকি, মা’র’ধ’র করতেন তিনি।

তবুও একপ্রকার জোর করেই পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছে তাহামীরা। ইমামনগর হাইস্কুলের ছাত্রী সে। ইতিমধ্যেই শুরু হয় মাধ্যমিক। তাহামীরা পরীক্ষা সেন্টার অর্জুনপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কিন্তু মাধ্যমিক দেওয়া নিয়ে চরম অশান্তি করেন রফিকুল। জানা গিয়েছে, শুক্রবারও রাতভর বাড়িতে অশান্তি করেছেন তিনি। এরপর আজ, শনিবার সকাল হতে না হতেই মাকে নিয়ে সোজা ফারাক্কা থানায় চলে যায় ওই ছাত্রী। 

সেখানে গিয়ে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে ওই পড়ুয়া। এরপরই আইসি দেবব্রত চক্রবর্তী ওই পড়ুয়াকে নিয়ে নিজের গাড়ি গাড়ি করে তার পরীক্ষা কেন্দ্র অর্জুনপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন। এই ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

কী জানাচ্ছেন ওই ছাত্রীর মা?

তাহরীমার মা স্বামী রফিকুল শেখের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেব, “কাল থেকে মেয়েটাকে খুব মা’র’ছি’ল আমার স্বামী। রাতেও মারে। তার আগে আমাকে মারধর করে। মেয়ে প্রতিবাদ করলে ওকেও মারতে থাকে। আসলে আমাদের বাড়িতে টাকার খুব টানাটানি। তা নিয়ে অশান্তি হচ্ছিল। খাওয়া-দাওয়া ঠিক মতো হচ্ছিল। এরমধ্যে মেয়েটা পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ওর বাবা কিছুতেই দিতে দিচ্ছিল না। বলছে পরীক্ষা দিতে যাওয়া যাবে না। মেয়েটা দিতে চাইলে আরও মারধর বাড়ে। শেষ পর্যন্ত আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হই”। 

RELATED Articles