‘বিজেপি যেদিন কেউ ছিল, সেদিন উনি ছিলেন, ওঁকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হল…’, দিলীপের হারে দুঃখপ্রকাশ ফিরহাদ হাকিমের

Firhad Hakim is sad for the loss of Dilip Ghosh: ১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তিনিই ছিলেন আসল কাণ্ডারি। তাঁর হাত ধরেই যে বঙ্গ বিজেপির উত্থান হয়েছে, তা অনস্বীকার্য। কিন্তু ২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে এসে তিনিই পরাজিত। তাঁর এই পরাজয়ের দায় কার? তাঁর নিজের কী আদৌ? নাকি দলের? সরাসরি না হলেও এমন প্রশ্ন তুলেই দিলেন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim is sad for the loss of Dilip Ghosh)

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। মেদিনীপুরকে তাঁর গড় বলা যায়। সেখানকার মানুষও তাঁকে ভরসা করতেন খুবই। কিন্তু ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সেই মানুষটাকেই সরিয়ে দেওয়া হয় মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে। নিজের গড় থেকে সরতে হয় দিলীপ ঘোষকে।

বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে টিকিট দেওয়া হয় দিলীপ ঘোষকে। পরিচিত গড় না হলেও ভোট প্রচারে কোনও খামতি রাখেন নি দিলীপ। স্বমহিমায় চালিয়েছে প্রচার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজের অপরিচিত জায়গায় পদ্ম ফোটাতে পারেন নি তিনি। তৃণমূল প্রার্থী কীর্তি আজাদের কাছে হার হয় তাঁর। তবে তাঁর হার নিয়ে বেশ মন খারাপ ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim is sad for the loss of Dilip Ghosh)।  

এই বিষয়ে ফিরহাদ বলেন, “খুব ভালো মানুষ দিলীপ ঘোষ। আমি দীর্ঘদিন দেখেছি ওঁকে বিধানসভায়। তবে এই পরাজয় নিয়ে আমার বলা সাজে না। এটা বিজেপির অভ‌্যন্তরীন বিষয়। কিন্তু যেদিন বিজেপির কেউ ছিল না সেদিন দিলীপ ঘোষ ছিলেন” (Firhad Hakim is sad for the loss of Dilip Ghosh)

কেন হেরে গেলেন দিলীপ ঘোষ (Firhad Hakim is sad for the loss of Dilip Ghosh)?

কেন্দ্র বদলের কারণেই কী হার দিলীপ ঘোষের? এমন প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে। এই বিষয়ে একটু খোঁচা দিয়েই ফিরহাদ বললেন, “যে লোকটা বিজেপিকে দাঁড় করাল এ রাজ্যে, দুই থেকে বিধায়ক সংখ্যা ৭৭ করল, তার এই অবস্থার জন্য সত্যিই খারাপ লাগছে। ওই মানুষটাকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হল। বাইরের কেউ এসে দলে ছড়ি ঘোরাবে। আর দিলীপ ঘোষ যিনি দলের পুরনো কর্মী, তিনি সাইড লাইনে চলে যাবেন। এটা মানা যায় না। এটা যে কোনও দলেরই পুরনো কর্মীদের খারাপ লাগার বিষয়” (Firhad Hakim is sad for the loss of Dilip Ghosh)

বলে রাখি, নিজের হার নিয়ে কথা বলতে খানিক শ্লেষ ধরা পড়ে দিলীপ ঘোষের গলাতেও। তিনি বলেন, “অসম্ভব কিছু না। সব সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে। বাংলার মানুষ বলবেন এই গুলো ঠিক হয়েছে না ভুল হয়েছে। আমাকে দল যখন যা বলেছে আমি নিষ্ঠার সঙ্গে করেছি। পুরো ইমানদারি দিয়ে করেছি। ফাঁকি রাখিনি। এবার বর্ধমানে হেরে যাওয়া কঠিন সিট ছিল। যারা সেখানে সেদিন ছিলেন তারাও মেনেছেন একটা জায়গায় অন্তত লড়াই হয়েছে”।

RELATED Articles