দু’বছর পর অবশেষে জামিন পেয়েছেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। গরু পাচার মামলায় আপাতত স্বস্তিতে তিনি। পুজোর আগেই তিহাড় জেল থেকে ফিরবেন নিজের সাধের বীরভূমে। তাঁর জামিনের নির্দেশে যে তাঁর দল বেজায় খুশি, তা ঠারে ঠারে প্রকাশ পেল রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কথাতেই।
২০২২ সালে গরু পাচার কাণ্ডে বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন অনুব্রত মণ্ডল। এরপর থেকে তিহাড় জেলেই ছিলেন তিনি। তবে গতকাল, শুক্রবার তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে দিল্লি তাইস অ্যাভিনিউ কোর্ট। আর এ খবর শোনা মাত্রই বীরভূমে যেন উৎসব। ঢোল, তাসা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন কেষ্টর অনুগামীরা। বিলি হয় সবুজ রসগোল্লা, ওড়ানো হয় সবুজ আবির। অনুব্রতর এই জামিনে খুশির হাওয়া তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেও।
অনুব্রতর জামিন প্রসঙ্গে এবার ফিরহাদ হাকিম বললেন, “বীরভূমের বাঘ বীরভূমের বাঘই থাকবে। আমি বলেছিলাম বীরভূমের বাঘ খাঁচায় আটকে বেশিদিন রাখা যাবে না। খাঁচায় যখন আটকে থাকে শিয়ালরা হায়নারা হউ হউ করে। কারণ বাঘ ভিতরে আছে। বাঘ বেরিয়ে গেলে আবার তারা লেজ তুলে পালায়”।
তিনি আরও বলেন, “আমরা আনন্দিত। আমাদের একজন নেতা বীরভূমে ফিরবেন। রাজনৈতিকভাবে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। সত্যের জয় হবে, সত্যের জয় হচ্ছে। সে কারণেই তো অরবিন্দ কেজরীবাল থেকে অনুব্রত মণ্ডল, সকলেই জামিন পেলেন”।
‘বীরভূমের বাঘ’-এর জামিন প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের দেশে তদন্তকারী সংস্থারা যত তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত করে সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহের দরকার তা করতে পারছে না বা করছে না”।
আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম কোর্টে আর জি কর মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানাল রাজ্য, হঠাৎ কেন এই আবেদন? কী জানাল শীর্ষ আদালত?
বলে রাখি, শুক্রবার অনুব্রত মণ্ডলের জামিন মঞ্জুর হলেও এখনও জেলমুক্তি হয়নি তাঁর। জানা গিয়েছে, জামিনের অর্ডার কপি এখনও পায়নি তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষ। আর কোর্টের অর্ডার কপি হাতে না পেলে কোনও বন্দিকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া যায় না সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের তরফে। আগামীকাল রবিবার, ফলে এদিনও জেলমুক্তি ঘটবে না কেষ্টর। অর্থাৎ তাঁর জেল থেকে বেরোতে সোমবার হয়ে যাবে। জেল থেকে বেরোলে বীরভূমে পা রাখার পর তাঁর অনুগামীরা নিজেদের প্রিয় ‘দাদা’কে নিয়ে কী উল্লাসে মাতে, সেটাই দেখার!





