ফের পেটের দায়ে সুন্দরবন জঙ্গলে গিয়ে মৃত্যু এক মৎস্যজীবীর। সঙ্গীদের নিয়ে সুন্দরবনের জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু বাঘের থাবা থেকে রক্ষা পেলেন না। বাঘের হামলায় ঘটনাস্থলেই মৃ’ত্যু হয় ওই মৎস্যজীবীর। জীবিকা নির্বাহের জন্য জঙ্গলে গিয়ে এমন প্রাণহানি যেন মেনে নিতে পারছেন না মৎস্যজীবীর পরিবার। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সকলে।
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
ওই মৎস্যজীবীর নাম হরিপদ মণ্ডল। সুন্দরবনের বাসন্তী উপকূলীয় থানা এলাকার ঝড়খালির বাসিন্দা তিনি। বয়স ৫৬ বছর। জানা গিয়েছে, আজ, সোমবার সকাল চার সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দরবনের জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন হরিপদ। সেই সময়ই বাঘের হামলার মুখে পড়েন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, জঙ্গলের ভেতরের দিকে চলে গিয়েছিলেন তারা। খাঁড়ির কাছেই ঘাপটি মেরে বসেছিল রয়্যাল বেঙ্গল বাঘ। খাঁড়ির জলে নামতেই হরিপদর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঘ। বাকিরা ছুটে পালালেও বাঘের থাবা থেকে রক্ষা পান নি হরিপদ। হামলার জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। মৎস্যজীবীর মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছে তাঁর পরিবার।
প্রসঙ্গত, এমনভাবে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মাছ বা কাঁকড়া ধরতে গিয়ে একাধিকবার বাঘের মুখে পড়ে মৃত্যু হয়েছে অনেক মৎস্যজীবীর। জঙ্গলের কোর এলাকায় মৎস্যজীবীদের যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন দফতর। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা না মেনেই জঙ্গলের ভিতরের দিকে যান মৎস্যজীবীরা।
আসলে, খাঁড়ির কাছেই মেলে কাঁকড়া। আর সেই খাঁড়ির সংলগ্ন ঘন জঙ্গলেই বাস রয়্যাল বেঙ্গল বাঘের। মাঝে মধ্যেই খাঁড়ির জল খেতে আসে তারা। সেই সময় কোনও মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই আক্রমণ করে বাঘ। পেট চালাতে গিয়ে এভাবে বাঘের পেটে গিয়েই মৃত্যু সংবরণ করেছেন কত কত মানুষ।





