রাজ্য

ঘুষ দিয়ে চাকরি কেনার অভিযোগ, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এই প্রথম গ্রেফতার ৪ অযোগ্য শিক্ষক

গত দেড় বছর ধরে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলছে। আদালতের নির্দেশে চাকরি গিয়েছে অনেক অযোগ্য শিক্ষকদের। এবার এই মামলায় গ্রেফতার ৪ অযোগ্য শিক্ষক। আলিপুর আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয় এই চার শিক্ষককে। তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কী অভিযোগ উঠেছে ধৃতদের বিরুদ্ধে?

ধৃতরা হলেন সায়গল হোসেন, জহিরুদ্দিন শেখ, সৌগত মণ্ডল এবং সিমার হোসেন। গ্রেফতারির আগে পর্যন্ত তারা প্রত্যেকেই চাকরি করছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে প্রথমে টাকা দিয়ে স্কুলে চাকরি কেনার অভিযোগ উঠেছিল। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাদের চারজনকে জেরা করেছিল সিবিআই। এরপর সাক্ষী হিসাবে তাদের নাম চার্জশিটে রেখেছিল।

কী বললেন এদিন বিচারপতি?

জানা গিয়েছে, ধৃতরা প্রত্যেকেই মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। আগাম জামিনের আরজি জানিয়ে আজ, সোমবার আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। বিচারপতি এদিন প্রশ্ন করেন, “চাকরির বিনিময়ে তাপস মণ্ডলকে তারাই টাকা দেন। সেই চাকরি ভোগও করেছেন তারা। তাদের জন্য বর্তমানে পার্থ চট্টোপাধ্যায়রা জেলবন্দি। তাহলে টাকা দিয়ে চাকরি পাওয়া অযোগ্য শিক্ষকদের নাম কেন সাক্ষী হিসাবে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে”?

এই চার শিক্ষকের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি অর্পণ চট্টোপাধ্যায় চার জনকেই গ্রেফতার করার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশের পরেই গ্রেফতার করা হয় চার শিক্ষককে। আপাতত তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্সি জেলে পাঠানো হয়েছে এই চার শিক্ষককে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত জেল হেফাজতে থাকতে হবে তাদের। 

আদালতের এই নির্দেশে গোটা শিক্ষক মহল আন্দোলিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি এর আগে যা দাবী করেছিল, সেই মোতাবেক অযোগ্য শিক্ষক বা টাকা দিয়ে চাকরি কেনার সংখ্যা কয়েক হাজার। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি অযোগ্যদের এভাবেই ধরে ধরে জেলে ঢোকানো হবে। কারণ টাকা দিয়ে চাকরি পেয়ে চারজন যদি জেলে যায়, তাহলে বাকিদের বিচার হবে না কেন? বলে রাখি, এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নেতা-মন্ত্রীরা গ্রেফতার হয়েছেন। তবে এই প্রথমবার ‘অযোগ্য’ শিক্ষকরা গ্রেফতার হলেন।

Back to top button
%d bloggers like this: