বর্তমানে বাজারদর যেন আকাশছোঁয়া। সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মাংস সবকিছুর দামই আগুন। এমন আবহে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। আর হোটেলের খাবার খেতে গেলে তো দামের কথা মাথায় এলেই রীতিমতো মনটা কেমন করে। কিন্তু এই দুর্মূল্যের বাজারেও অতি সস্তায় মিলছে মাংস ভাত, মাছভাত।
মাত্র ২২ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে মাংস ভাত, ২১ টাকাতে মাছভাত ও ১৭ টাকাতে মিলছে সবজি ভাত। কী! ভাবছেন কোনও ঠাট্টা চলছে, তাই তো? না, এমন খাবারের সন্ধান পেতে গেলে আপনাকে অবশ্যই চলে আসতে হবে ডায়মন্ড হারবারে। প্রতিদিন এই স্বল্প মূল্যের খাবার খেতে ভিড় জমান শতাধিক মানুষ।
ডায়মন্ডহারবারের লালপোলে গেলেই এমন দৃশ্য সহজেই দেখতে পাবেন। এই সস্তার সুস্বাদু খাবারের হোটেলের স্থানীয় নাম চিপ ক্যান্টিন। ৪৬ বছর আগে এই ক্যান্টিনগুলি শুরু হয়েছিল। প্রথমে এই ক্যান্টিনগুলিতে মাছভাত মিলত ২ টাকা ৫০ পয়সায়। ধীরে ধীরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমানে তা এসে দাঁড়িয়েছে ২২ টাকায়। এখন এই ২২ টাকায় মেলে মাংস ভাত।
এই অগ্নিমূল্যের বাজারেও ডায়মন্ড হারবারের লালপোলে এমন তিনটি ‘চিপ ক্যান্টিন’ রয়েছে। এগুলির নাম ঘোষ চিপ ক্যান্টিন, ভোলা চিপ ক্যান্টিন ও দীপক চিপ ক্যান্টিন। প্রত্যেক ক্যান্টিনেই প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ লোক খাবার খেতে আসেন। দাম কম হওয়ায় বেশ আনন্দের সঙ্গে সকলে উপভোগ করেন এই খাবার।
এ নিয়ে ঘোষ চিপ ক্যান্টিনের মালিক সমীর ঘোষ জানান তাঁরা বাইরের কোনও শ্রমিক রাখেন না সবকিছুই তারা নিজেরাই রান্না করেন। এর পাশাপাশি আনুসঙ্গিক কাজগুলিও তাঁরাই করেন। সেই কারণেই এতো কম দামে তাঁরা খাবার পরিবেশন করতে পারেন।
জানা যাচ্ছে, বাজার থেকে রান্না সবকিছুই করেন ওই চিপ ক্যান্টিনগুলির মালিক ও তাদের পরিবারের লোকজন। এই অগ্নিমূল্যের বাজারে আমজনতার মুখে স্বল্পমূল্যে খাবার তুলে দেওয়াই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। আর বছরের পর বছর ধরে সেই লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছেন তারা। হাসি ফোটাচ্ছেন জনতার মুখে। আপনিও চাইলে একবার এই চিপ ক্যান্টিনের খাবার চেখে দেখতেই পারেন।
ঠিকানাঃ লালপোল, ডায়মন্ডহারবার, দক্ষিণ ২৪ পরগণা
যোগাযোগ:
ঘোষ চিপ ক্যন্টিন – ৯৫৬৪৮০৩৯২৫
ভোলা চিপ ক্যান্টিন – ৮৯২৬৬৪৫৪৯৪৮





