কয়েক বছর আগে, যে মহামারী গোটা দেশ, বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল তার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করতে সক্ষম হয়েছিলাম। বিভিন্ন প্রতিষেধকের মাধ্যমে সেই রোগের বিরুদ্ধে লড়ে বহু প্রাণ হারিয়েও আমরা জিতে গেছি। কিন্তু আজও সমাজে একটি মহামারী স্থায়ী ভাবে রয়ে গেছে। কোনও লড়াই, কোনও শাস্তি, কোনও কিছুই সেই মহামারীকে রুখতে সফল হয়নি। হাতে এসেছে শুধুই ব্যর্থতা।
বলাই বাহুল্য, ভারতবর্ষে প্রত্যেকদিন কোনও না কোনও না কোনও নারী সেই মহামারীর শিকার। হ্যাঁ, নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আমি কোন মহামারীর কথা বলছি। ‘ধর্ষণ’! আমাদের দেশে ধর্ষণ, গণধর্ষণের সব বিভিন্ন ‘রেট’ আছে। একটা মেয়ের শরীরের কতখানি ক্ষতি হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে সেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়। কখনও তিন লাখ, ৫ শাখ থেকে সর্বোচ্চ দশ লাখ। কিন্তু কে চেয়েছে সেই ক্ষতিপূরণের অর্থ? সে তো চেয়েছে সুষ্ঠুভাবে স্বাধীন দেশে বাঁচতে, নিঃশ্বাস নিতে। সে চায়নি অভয়া, নির্ভয়া, তিলোত্তমা নামে পরিচিত হতে। সে চেয়েছিল পিতৃদত্ত নামেই নিজের পরিচয় বানিয়ে নিতে।
সম্প্রতি একটি ঘটনা কার্যত নাড়িয়ে দিয়েছে দেশবাসীকে। ভারতের সবথেকে সুরক্ষিত শহর বলে খ্যাত কলকাতা দেখিয়েছে তার নখ, দাঁত! তার রাক্ষুসে চেহারা দেখে গা ঘিন ঘিন করছে সবার। ভারতবর্ষের অন্যতম প্রাচীনতম হাসপাতাল আর জি করে ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা। চিকিৎসারত মহিলা চিকিৎসকের ওপর নারকীয় অত্যাচার করে খুন করা হয় তাকে। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও এখনও তদন্ত চলছে। সুবিচারের আশায় সবাই। আমাদের দেশে ধর্ষণের মত ঘটনা ঘটলেই, নেতা, নেত্রীরা সবাই প্রশ্ন তুলতে থাকেন মেয়েটির চরিত্র, পোশাক নিয়ে। তবে এই ক্ষেত্রে বোধহয় অবকাশ একটু হলেও কম। তিনি উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন, টানা ৩৬ ঘন্টা কাজের শেষে ঘুমাতে গিয়েছিলেন। আর সেই ঘুমন্ত মানুষটার সঙ্গেই ঘটে যায় এই পাশবিক ঘটনা। আর এই প্রথম কোনও মৃত্যুর বিরুদ্ধে এইভাবে ফুঁসে উঠেছে শহর কলকাতা। অপরাধী শাস্তি হোক, এটাই চাওয়া।
আর সেই কারণেই এবার সরকারি কর্মীরাও পথে নামছেন অপরাধীদের শাস্তির দাবি নিয়ে। দমদম গার্লস হাই স্কুলের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেই স্কুলের বর্তমান এবং প্রাক্তন ছাত্রীরা সোমবার বেলা ১২:৩০ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে মৌন মিছিলে বেরোবেন। না সরকারি চাকরির পরেও মানবিকতার এক দারুণ পাঠ পড়াতে চলেছেন সেই স্কুলের শিক্ষিকা থেকে শিক্ষা কর্মীরা।
আর সরকার শুনুন, আমজনতার মুখ বন্ধের চেষ্টা করবেন না। লড়াই আপনাদের বিরুদ্ধে নয়, লড়াই সমাজের রোগের বিরুদ্ধে। আর এই রোগ দূর করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে নামতে হবে। লড়াইকে প্রতিহত করে, কারর গলার স্বর অবদমিত করে এই লড়াইকে নিষ্ক্রিয় করা আপনার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়! সরকার শুনছেন তো?





