স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুর পরকীয়া! স্ত্রী ও বন্ধুকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেললেন স্বামী, এরপর যুবকের যা পরিণতি হল, জানলে গা শিউড়ে উঠবে…

বন্ধুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছেন স্ত্রী। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি কম হয়নি। কিন্তু সম্পর্ক ভাঙেনি প্রেমীযুগলের। এরই মধ্যে স্ত্রী ও বন্ধুকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে নেন স্বামী। এর পরিণতি হল ভয়ংকর। এক বন্ধুর হাতে খুন অন্য এক বন্ধু। আজ, মঙ্গলবার সকালে উত্তর ২৪ পরগণার বাগদা থানার কুলবেরিয়ার পারুইপাড়ায় ঘটে এই ঘটনা।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাগদা থানার কুলবেরিয়া পারুইপাড়ার বাসিন্দা বাসুদেব ঘোষ। তার স্ত্রীর নাম কাকলি।বাসুদেবের সঙ্গে একই পাড়ায় থাকতেন মৃত আনন্দ ঘোষ। বাসুদেব ও আনন্দ একসঙ্গে দিনমজুরের কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে দু’জনের মধ্যে ভালোই বন্ধুত্ব ছিল। বাড়িতে যাতায়াতও ছিল একে অপরের।

স্থানীয় সূত্রে খবর অনুযায়ী, এই যাতায়াতের জেরেই বাসুদেবের স্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ান আনন্দ। তবে এই ব্যাপারটা বেশিদিন গোপন রাখতে পারেননি কাকলি ও আনন্দ। তাদের সম্পর্কের কথা জেনে যান বাসুদেব। এই নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তি লেগেই থাকত তাঁর। কিন্তু এরপরও কাকলি ও আনন্দের সম্পর্ক একইরকম ছিল। এরই মধ্যে বাসুদেব তাঁর স্ত্রীকে প্রেমিক অর্থাৎ তাঁর বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলে।

আজ, মঙ্গলবার সকালে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে দাঁড়িয়ে ছিলেন আনন্দ। সেই সময় কুড়ুল হাতে কাজে যাচ্ছিলেন বাসুদেব। সেই সময় আনন্দকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাঁর কাছে যান বাসুদেব ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে আনন্দের সম্পর্ক নিয়ে কথা ওঠে। দুজনের মধ্যে শুরু হয় বচসা।

এই বচসার মধ্যেই আনন্দের মাথায় কুড়ুল দিয়ে কোপ বসিয়ে দেন বাসুদেব। সেখানেই লুটিয়ে পড়েন আনন্দ। স্থানীয়রা তাঁকে তড়িঘড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে বনগাঁ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা আনন্দকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাগদা থানার পুলিশ। বাসুদেবকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আনন্দের দাদা লক্ষ্মণ ঘোষ বলেন, “ভাই একজনের বাড়িতে বসে গল্প করছিল। সেই সময় বাসুদেব পিছন দিক থেকে ভাইয়ের মাথায় কুড়ুল দিয়ে কোপ মারে। ওদের মধ্যে কোনও ঝামেলা বা অশান্তি ছিল বলেও জানা নেই। ভাইয়ের খুনির দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক”।

RELATED Articles