সরকারী নির্দেশকে অমান্য করেই বেসরকারী সংস্থা-এ চলছে কর্মী ছাঁটাই

করোনার মধ্যে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই চলছে নিয়মের উলঙ্ঘন। ২৫শে মার্চ থেকে শুরু হওয়া লকডাউন আজ এক মাস হলো জারি রয়েছে। দেশে করোনা সংক্রমন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় সরকার সংক্রামিত এলাকাগুলিতে এখন নজরদারির পরিমাণও বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু এইসবের সুযোগে কিছু কোম্পানি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই কর্মী ছাঁটাই এর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। করোনার দোহাই দিয়ে ৩০টি পরিবারকে পাকাপাকি অনাহারের দিকে ঠেলে দিল একটি মাল্টিন্যাশনাল আইসক্রিম কোম্পানি।

লকডাউন শুরু হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন কোন কর্মসংস্থান থেকে কর্মী ছাঁটাই করা যাবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও আসানসোলের সালানপুর থানার অন্তর্গত এথোরা গ্রামের এলাকায় দু নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত এই মাল্টিন্যাশনাল আইসক্রিম কোম্পানি প্রায় ৩০জন কর্মীকে কাজ থেকে বের করে দিল। কোম্পানিটি চালু হয় ২০১৭ সালে। এই কারখানায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৮০০ জন কর্মী কাজ করেন। লকডাউন চলায় এই কারখানা এখন বন্ধ। এই সংকটের মুহূর্তে ৩০ জন কর্মীকে টেলিফোন করে জানিয়ে দেওয়া হয় আর কাজে আসতে হবে না এবং মেল মারফত ছাঁটাইয়ের নোটিশ তাদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আচমকা চাকরি চলে যাওয়াতে দিশেহারা হয়ে পড়েন বলবীর সিং, সুপান্ত রায় চৌধুরীর-সহ ত্রিশ জন কর্মী।

এই ৩০ জন কর্মীর বেশিরভাগই অন্য রাজ্যের বাসিন্দা। যখন এই কারখানাটি শুরু হয় তখন কর্তৃপক্ষই অন্য রাজ্য থেকে কর্মীদের এই রাজ্যে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু এই লকডাউনের মধ্যে হঠাৎ করে চাকরী চলে যাওয়ায় তাদের ঘরে খাবারই বা জুটবে কি করে আর বাড়ি ভাড়াই বা আসবে কোথা থেকে এই নিয়ে এখন মহাবিপদে পড়েছেন তাঁরা।

এখনও অবধি স্পষ্ট করে ছাঁটাই এর কারণও জানায়নি কর্তৃপক্ষ। ছাঁটাই কর্মীরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ছিলেন, অর্ধেক বেতনেও তারা কাজ করতে রাজি আছেন। তবুও তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত কেন করা হলো? বারবার অনুরোধে কোনও কাজ না হওয়ার পর ৩০ জন ছাঁটাই হওয়া কর্মী প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁরা চিঠি দিয়ে সমস্ত ঘটনাটাই পশ্চিম বর্ধমানের জেলা আধিকারিক আর লেবার কমিশনকে জানান। এই অভিযোগের ভিত্তিতে লেবার কমিশন মাল্টিন্যাশনাল আইসক্রিম কোম্পানির কর্তৃপক্ষকে একটা কড়া চিঠি পাঠান। যাতে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে, ‘কেন্দ্র এবং রাজ্যের নির্দেশকে অমান্য করে আপনারা কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো আইন বিরোধী কাজ করতে পারেন না। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিজেদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বলেন।

RELATED Articles

Leave a Comment