রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে শোরগোল। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির কারণে জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মানিক ভট্টাচার্য, সুবীরেশ ভট্টাচার্যের মতো শিক্ষাক্ষেত্রের আধিকারিকরাও আপাতত জেলে। এবার দুর্নীতির অভিযোগ এল বিএড কলেজ থেকেও।
শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করতে গিয়েই বিএড কলেজে দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসে। অনুমোদন নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ভবিষ্যতের শিক্ষক গড়ার জন্য যে প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলল বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাজ্যের একাধিক বিএড কলেজ রয়েছে।
অভিযোগ, কোনও রকমের অনুমোদন না নিয়েই রাজ্যে অনেক বিএড কলেজ চলছে। কোনও কলেজে নেই শিক্ষক তো কোথাও আবার পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই। কিছুদিন আগেই বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয় যে অসাধু চক্রকে টাকা দিয়ে অনেক বিএড কলেজ অনুমোদন পাচ্ছে। এনসিটিই অর্থাৎ ন্যাশানাল কাউন্সিলর ফর টিচার এডুকেশনের গাইডলাইন ছাড়াও চলছে অনেক বিএড কলেজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সতর্ক করা হয়েছে যাতে কেউ এই দুর্নীতি চক্রে পা না দেয়। ন্যাশানাল কাউন্সিলর ফর টিচার এডুকেশনের গাইডলাইন থাকলে তবেই অনুমোদন দেওয়া যাবে। কেউ যদি কলেজের শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে টাকা দিতে চায়, তাহলে সেই ফাঁদে যাতে পা না দেয় কোনও কলেজ, এমনই সতর্কবার্তা দিল বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্দরে কী তাহলে এখনও দুর্নীতি চলছেই? এই নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
কী মত রাজনীতিবিদদের?
এই প্রসঙ্গে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এগুলো তো চলছিলই। এখনও চলছে। কোথায় কোথায় এমন ঘটল, কোন কোন কলেজ বেআইনি, কারা টাকা নিচ্ছে? সেই টাকার ভাগ কোথায় কোথায় গেল? এগুলো শিক্ষা মন্ত্রকের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত”।
তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের বক্তব্য, “বাংলায় এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটে না। এমন কোনও ঘটনা নজরে এলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তার মোকাবিলা করা হয়। তদন্ত হয় ও শাস্তি দেওয়া হয়। বিজেপি নয় যে এই ধরনের দুর্নীতিতে মদত দেবে। মন্ত্রীকেও আমরা রেয়াত করি না, সে কথাও প্রমাণিত হয়েছে”।





