ইমরান খানের দুঃসময় যেন কাটেই না। যবে থেকে পাকিস্তানের গদি সামলাচ্ছেন তবে থেকেই একের পর এক ধাক্কা সামলে যেতে হচ্ছে তাঁকে। এবার নিজের দেশের সুপ্রিমকোর্টের কাছেই তীব্র অপমানের সম্মুখীন হতে হলো তাঁকে।|
পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত কার্যত জানিয়ে দিল দেশ চালানোর জন্য ন্যূনতম ‘যোগ্যতা’ নেই ইমরানের!
গতকাল অর্থাৎ সোমবার একের পর এক অভিযোগে বিদ্ধ হতে হল ইমরান সরকারকে। একটি স্থানীয় নির্বাচন সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আদালত তুলে আনে জনগণনার বিষয়টিও। বিচারপতি কাজি ফইজ ইসাকে বলতে শোনা যায়, ”জনগণনার ফলাফল প্রকাশ করা কি সরকারের অগ্রাধিকার নয়? তিনটি প্রদেশে সরকারে থাকার পরেও কাউন্সিল নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হল না!” এরপরই ইমরান প্রশাসনকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ”হয় এই সরকার দেশ চালাতেই জানে না, অথবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।”
তবে পাক প্রধানমন্ত্রীর উপর থেকে চাপ কমার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এদিন সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার পরে সেই চাপ আরও বাড়ল। সম্প্রতি নিজের দেশে দুর্নীতির কথা স্বীকার করে ইমরান বলেছিলেন, পাকিস্তানের থেকে অনেক বেশি উন্নত দেশ ভারত। দুর্নীতিতে ডুবেই শেষ হয়ে গিয়েছে ইসলামাবাদের উন্নয়নের আশা।
এদিকে লাহোর হাই কোর্টে নিগৃহীত হতে হয়েছে ইমরান খানের বিশেষ সহকারী শাহবাজ গিলকেও। তাঁকে ডিম ছুঁড়ে মারা হয় ও গায়ে কালি ছিটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজ। ঘটনার পরে শাহবাজ অবশ্য জানিয়েছেন, তাঁরা ইমরান খানের যোগ্য সহচর। তাই তাঁরা বদলার পথে যাবেন না। এমনিতেই গত অক্টোবর থেকে বিরোধীদের প্রতিবাদ আন্দোলনের ধাক্কায় ক্রমশ পিছু হটতে শুরু করেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
তবে কিছুদিন আগেই বিরোধী ‘মহাজোট’-কে প্রবল ধাক্কা দিয়ে আস্থা ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। যার ফলে আপাতত পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিছুটা কমবে বলেই মত কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের।





