সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে সকল রাজনৈতিক দলগুলিই চাইছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ধরে রাখতে। কিন্তু তা আর হল কই। বৃষ্টিস্নাত ভোরে আচমকাই রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রীর ভাইয়ের বাড়ি হানা দিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। বাড়ির বাইরে পাহারারত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। এমন ঘটনায় লোকসভা ভোটের আগে বেশ অস্বস্তিতে শাসক দল।
লোকসভা ভোটের আগেও কেন্দ্রীয় এজেন্সির হানা চলছেই। এর আগে নানান নেতাদের বাড়ি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে ইডি-সিবিআই। নানান দুর্নীতি কাণ্ডে এই মুহূর্তে শাসক দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী জেলবন্দি। তা নিয়ে তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে যথেষ্ট দাগ লেগেছে। আর এবার ঠিক ভোটের আগে তৃণমূল মন্ত্রীর ভাই যিনি নিজেও তৃণমূল নেতা, তাঁর বাড়িতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির হানায় বেশ ব্যাকফুটে তৃণমূল।
সূত্রের খবর, আজ, বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার সময় কেন্দ্রীয় এজেন্সি হানা দেয় রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের বাড়ি। তবে ইডি বা সিবিআই নয়, তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছেন আয়কর দফতরের আধিকারিকর। ঠিকঠাক ট্যাক্স না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মন্ত্রীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ট্যাক্সের নানান কাগজপত্র ঘেঁটে দেখছেন তারা।

এদিন আয়কর বিভাগের আধিকারিকরা মন্ত্রীর ভাইয়ের বাড়ি অভিযান চালাতেই বাড়ির বাইরে জমে ভিড়। বাইরের গেটের ভিতরে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকরা কথা বলছেন স্বরূপ বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী জুঁই বিশ্বাসের সঙ্গে। তাদের আয়কর রিটার্নে কিছু গড়মিল পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ।
স্বরূপ বিশ্বাস এলাকায় দাপুটে তৃণমূল নেতা বলেই পরিচিত। ফলে তাঁর বাড়িতে আয়কর বিভাগের হানায় বাড়ির বাইরে বেড়েছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেই কারণে এলাকা ঘিরে রেখেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
এই আয়কর হানা প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “আসলে এটাই পরিষ্কার করে দিচ্ছে, বিজেপি ম্যাচ হেরে গিয়েছে। আসলে বিজেপি যখন হেরে যায়, তখন দাঁত-নখ বার করে। কালকেই দেখা গিয়েছে, লোকপাল মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এই বিষয়গুলো অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে সবটা বলে দিচ্ছে। বিজেপি আসলে ল্যাজে-গোবরে হচ্ছে”।
সূত্রের খবর, এদিন শুধু নিউ আলিপুর নয়, এদিন বেহালা ও পর্ণশ্রী থানা এলাকার মোট ৫ টি জায়গায় হানা দিয়েছেন আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা। এর মধ্যে ইডেন রিয়েল এস্টেট ও মাল্টিকন রিয়েল এস্টেটের একাধিক ঠিকানাও রয়েছে বলে খবর।





