সাহায্য না ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা? হালিশহরে তৃণমূল ‘দুষ্কৃতীর’ হাতে নিহত বিজেপি নেতার স্ত্রীকে চাকরি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

সত্যিই কী সাহায্য করতে চাইলেন তিনি নাকি শুধুমাত্র নিজের দলের কুকীর্তিকে ধামাচাপা দিতে জনগণের চোখে ধুলো মাত্র? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে বিরোধী দলগুলির অন্দরে। জানা গিয়েছে, হালিশহরে নিহত বিজেপি বুথ সভাপতি সৈকত ভাওয়ালের স্ত্রীকে সরকারী চাকরি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়েই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে চলছে জোর গুঞ্জন।

খবর অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নিহত বিজেপি বুথ সভাপতি সৈকত ভাওয়ালের স্ত্রী নবপর্ণার হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে এসেছেন নৈহাটির তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিক। দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরে চাকরি পেলেন নবপর্ণা। এদিন পার্থ ভৌমিকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন টিএমসিপি রাজ্য সভাস্বপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। সৈকত ভাওয়লালের পরিবার খানিকটা স্বস্তি পেলেও এর পিছনেও মমতার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে বলেই মনে করছে নানান বিরোধী দল।

গত ১২ই ডিসেম্বর হালিশহর এলাকায় দলীয় কর্মসূচীতে যোগ দেন সৈকত। এদিন তাকে প্রকাশ্যেই রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধোর করা হয়। এর ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। অভিযোগের তীর যায় শাসকদলের দুষ্কৃতীদের উপর। এই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই তাঁর স্ত্রীকে সরকারী চাকরি দেওয়ার বিষয়কে মোটেই ভালো চোখে দেখেনি বিরোধী পক্ষ।

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এই অবস্থায় তাঁর ও তাঁর দলের দিকে উঠে আসা আঙুলকে নামাতেই যে মমতা এই কাজ করছেন, তা বেশ স্পষ্ট। সকলে তা স্বীকার না করলেও, এই ঘটনার পিছনে মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করেছেন বলেই ধারণা অনেকের।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের মার্দ মাসে হালিশহরের সৈকতের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন নবপর্ণা। বিয়ের এক বছরের মধ্যেই স্বামীর এই অকালমৃত্যুকে মেনে নিতে পারেননি নবপর্ণা। তবে রাজ্য সরকার দ্বারা প্রদত্ত এই চাকরিতে সৈকতের পরিবার উপকৃত হবে বলেই আশা রাখছেন অনেকেই। তাঁকে চাকরি দেওয়ার জন নবপর্ণাও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন।

RELATED Articles