বুথ পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও তাঁর স্ত্রী বিজেপি প্রার্থী চৈতালি তিওয়ারি। তৃণমূল বিক্ষোভ দেখাতে থাক তাদের ঘিরে। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান জিতেন্দ্র ও তাঁর স্ত্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসানসোলের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
এবার এই ওয়ার্ড থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী চৈতালি তিওয়ারি। এদিন সকালে হাজি কদম স্কুলে বুথ পরিদর্শনে যান তিনি। কিন্তু বুথে ঢোকার আগেই তৃণমূলের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। তাঁর গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন চৈতালি তিওয়ারি।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জিতেন্দ্র ওই এলাকায় বহিরাগত, সেক্ষেত্রে তিনি কেন বুথে ঢোকার চেষ্টা করছেন? তাঁকে বাধা দেয় পুলিশও। জিতেন্দ্র তিওয়ারির পাল্টা বক্তব্য, তিনি নির্বাচনী এজেন্ট। সেক্ষেত্রে তিনি বুথ পরিদর্শনে আসতেই পারেন। পুলিশও জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে বুথে ঢুকতে বাধা দেয়। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন সস্ত্রীক জিতেন্দ্র। চৈতালি তিওয়ারিকেও হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশের সামনে হাউ হাউ করে কাঁদলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী বিজেপি প্রার্থী চৈতালি তিওয়ারি।
পুলিশকে চৈতালি তিওয়ারি পাল্টা প্রশ্ন করেন, “ওদের এত হিম্মত কীভাবে হয়, আমার গায়ে হাত দেওয়ার”। এরই মধ্যে জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে ঘিরেও ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। ক্যামেরার সামনে চৈতালি বলেন, “ওদের দাবী, আমাদেরকে কেউ ভোট দেবে না। ওরা এসে এখানে সন্ত্রাস করবে, ছাপ্পা মারবে। আর বাকি পুলিশ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে। পুলিশরা দেখছে, এক জন মহিলাকে মারছে। ভোট হতে দিচ্ছে না ওরা”। এদিকে জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, “এই যে ক্যান্ডিডেট এসেছে, তাঁর গায়েই হাত চালিয়ে দিল। তৃণমূলের লোক সব”।
পুলিশের সামনেই হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেন চৈতালি তিওয়ারি। অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টাও করেন তিনি। দাবী তোলেন যে অভিযুক্তদের যদি গ্রেফতার না করা হয়, তাহলে তিনি সেখান থেকে নড়বেন না। এরপর পুলিশ তাঁর সঙ্গে কথা বলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, “এখানে এসে ওরা ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করছে। সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে দিচ্ছে না। জিতেন্ত্র তিওয়ারি যেন এখান থেকে যায়। সাধারণ মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যেন দেওয়া হয়”। তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা চ্যালেঞ্জ, “যদি একটা ছবি আপনারা দেখাতে পারেন, কারোর গায়ে হাত তোলা হয়েছে, তাহলে আপনি বলবেন! এখানে একটা ড্রামা চলছে। যাতে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে না পারেন”।





