বিজেপিতে যোগদানের মাশুল দিলেন পটাশপুরের কৃষক: জমির ফসল নষ্টের অভিযোগ শাসকের বিরুদ্ধে

আবার প্রকাশ্যে এল তৃণমূল ও বিজেপির দলীয় তরজা। এবারে ঘটনা ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরে। তৃণমূলের এক সদস্য বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তার জমির ধান নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর ১ নম্বর ব্লকের ছাড়াদিঘি গ্রামে।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের মাশুল দিতে হল শ্যামাপদ সাঁতরাকে। কীটনাশক দিয়ে তার জমির ফসল নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল ৷ এই অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায় ।

ছাড়াদিঘি গ্রামের শ্যামাপদ সাঁতরা এক সপ্তাহ আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন । সম্প্রতি তিনি লক্ষ্য করেন, সবার জমির ধানগাছ সবুজ আছে । কিন্তু তার ধান গাছগুলি শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। তিনি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। আর সব কৃষকদের সঙ্গে আলোচনাও  করেন তিনি যে, কেন তার জমি শুকিয়ে যাচ্ছে? পরে উনি জানতে পারেন, যে তার জমিতে জঙ্গল সাফ করার ওষুধ দেওয়া হয়েছে, তিনি হতবাক হয়ে যান ।

ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় শ্যামাপদ সাঁতরা জানান, ‘‘আমি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করাতেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমার ধানজমিতে জঙ্গল সাফ করার ওষুধ দিয়ে দিয়েছেন। আমার প্রতি প্রতিশোধ নিতে বা আমাকে জব্দ করতে এই সব কাজ করছে শাসক দল তৃণমূল । এই মর্মে আমি গত ১৬ তারিখে পটাশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি ।’’

স্থানীয় বিজেপি নেতা শংকরপ্রসাদ ভঞ্জ বলেন , “শ্যামাপদ সাঁতরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তৃণমূলের লোকেরা হুমকি দিচ্ছিল । আমার বিশ্বাস যারা হুমকি দিচ্ছিল তারাই এই সব কাণ্ড ঘটিয়েছে ৷”

তবে এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল পরিচালিত গোপালপুর গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান প্রভুরাম দাস। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আপনাদের মুখ থেকে এই প্রথম আমি শুনলাম যে চাষের জমিতে কেউ জঙ্গল সাফ করার ওষুধ দিয়েছে । আমাকে খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে ঘটনাটা কতটা সত্যি । কোন কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে যাক, সেটা আমি চাই না । আর এর সঙ্গে তৃণমূলের কোন যোগ নেই । আমাকে যদি সেই কৃষক অভিযোগ করেন তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখব ।’’

RELATED Articles

Leave a Comment