ডায়মন্ড হারবারের মাছের আড়তে যে ইলিশ ঢুকবে, তা আগের থেকেই খবর ছিল প্রশাসনের কাছে। এই কারণে ২৩ সেন্টিমিটারের কম সাইজের খোকা ইলিশ যদি কেউ ধরে থাকেন, তা বাজেয়াপ্ত করতে অভিযান চালান প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
কিন্তু আড়তে আড়তে টহল দিতে হাঁ হয়ে গেলেন আধিকারিকরা। কোনও ছোটো ইলিশ তো পেলেনই না, উল্টে পেল্লাই সাইজের কিছু ইলিশের দেখা পেলেন তারা। এর জেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস পড়ল সমস্ত মহলেই। কারণ খবর ছিল, বেশ অনেকদিন পরই ডায়মন্ড হারবারের নগেন্দ্রবাজার মাছের আড়তে ইলিশ ঢুকবে। তাই আশঙ্কা ছিল যে ২৩ সেন্টিমিটারের খোকা ইলিশ হয়ত পাইকারি বাজারে বিক্রির জন্য ধরে আনা হবে।
আরও পড়ুন- সুরাপ্রেমীদের জন্য সুখবর! রাজ্যে অনেকটাই কমবে মদের দাম, কিন্তু কবে থেকে, জেনে নিন
ডায়মন্ডহারবারের এসডিও সুকান্ত সাহা, এসডিপিও মিতুনকুমার দে, আইসি গৌতম মিত্র ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সহ-মৎস্য অধিকর্তা জয়ন্তকুমার প্রধান প্রস্তুত হয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে মাছের আড়তে হাজির হন। এদিন তাদের সঙ্গে ছিলেন জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ উমাপদ পুরকাইতও।
কিন্তু সব আড়তে তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও ছোটো ইলিশের হদিশ পান নি তারা। দেখা মিলল না বড় ইলিশের দেখাও। উল্টে দু’টি আড়তে তাঁরা দেখলেন সেখানে বেশ কিছু ইলিশ এসেছে যার সবকটারই ওজন ৮০০-৯০০ গ্রাম মতো। এমনকী এক কেজি থেকে দেড় কেজির বেশি ওজনের কিছু ইলিশও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মহকুমাশাসক এই বিষয়ে জানান, ফ্রেজারগঞ্জ, কাকদ্বীপ, নিশ্চিন্তপুর, কুলপি ও নামখানা থেকে এদিন ইলিশ আড়তে ঢুকেছে। কিন্তু এদিন ২৩ সেন্টিমিটারের কম সাইজের কোনও ইলিশের দেখা পাননি তাঁরা। এর ফলে তারা বেশ খুশি। তিনি মৎস্যজীবী, আড়তদার, ট্রলার মালিক সকলকেই পরামর্শ দেন যাতে তারা ছোটো ইলিশ না ধরা ও বিক্রির ব্যাপারে এ ভাবেই সচেতন থাকেন।
সহ মৎস্য অধিকর্তার মতে, যদি সকলেই এভাবে ছোটো ইলিশ ধরা ও বিক্রি বন্ধ করার বিষয়ে সচেতন হয়, তবেই বাঙালি ফের ইলিশের স্বাদ ফিরে আবে ও তৃপ্তও হবে।
এদিকে আড়তদার সৌমিত্র দাস মরশুমে প্রথম এত বড় সাইজের ইলিশ পেয়ে বেজায় খুশি। তিনি জানান, এদিন তাঁর আড়তে দু’হাজার কেজি ইলিশ ঢুকেছে। এক কেজি থেকে এক কেজি সাতশো গ্রাম ওজনের ইলিশ ১২৫০-১৫০০ টাকায় এদিন নিলামে উঠেছে তাঁর আড়তে। আর ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকায়।
এদিন নগেন্দ্রবাজার আড়তদার সমিতির সম্পাদক জগন্নাথ সরকার জানান, এদিন দু’টি আড়ত মিলিয়ে প্রায় আড়াই টনের মতো ইলিশ ঢুকেছে। সব মাছেরই ওজন ৮০০গ্রাম থেকে ১ কেজি ৭০০ গ্রামের মধ্যে। এই পেল্লাই সাইজের ইলিশ আড়তে ঢোকায় কিছুটা হলেও এবার আশাবাদী তাঁরা।






