আর জি কর কাণ্ডের ৫০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও ন্যায় বিচার পান নি তরুণী চিকিৎসক। দিকে দিকে জারি আন্দোলন-বিক্ষোভ। শুক্রবার গণকনভেশন করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। আর এরই মধ্যে এবার জানা গেল ফের কর্মবিরতিতে জুনিয়র চিকিৎসক।
আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর পর থেকেই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে টানা ১১ দিন অবস্থান বিক্ষোভ করেন তারা। প্রশাসনের তরফে তাদের কিছু দাবী মানা হলে আংশিক কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তারা। জরুরি পরিষেবার কাজে যোগ দেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তবে এবার ফের তাদের সম্পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা।
কেন এই কর্মবিরতি?
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যের দিকে উত্তর ২৪ পরগণার সাগর দত্ত হাসপাতালে এক মুমূর্ষু রোগীকে ভর্তি করানো হয়। গত ৫ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন সেই রোগী। জুনিয়র চিকিৎসকদের কথায়, ওই রোগীর অবস্থা প্রায় মরণাপন্নই ছিল। আর সেকথা রোগীর পরিবারকে জানানোও হয়েছিল। চিকিৎসার সময়ই শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয় ওই রোগীর। অবশেষে মৃত্যু হয় তাঁর।
রোগীর মৃত্যুর পরই হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন রোগীর পরিজনরা। জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলা হয় বলেও অভিযোগ। জুনিয়র চিকিৎসকদের মারধর করেন রোগীর পরিবারের লোকজন, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে এক তুমুল বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার পরই সম্পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় জুনিয়র চিকিৎসককে ফের মারধর করা হয়েছে। ফলে নিজের কর্মস্থলে নিরাপদ নন তারা, এমনটাই অভিযোগ জুনিয়র চিকিৎসকদের। তাদের কথায়, হাসপাতালের নিরাপত্তার দাবীতে তারা যে দাবী রেখেছিলেন, তা পূরণ হচ্ছে না। দাবীর পরও এখনও নিজের কর্মস্থলে অসুরক্ষিত তারা। আর সেই কারণেই তাদের পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
জুনিয়র চিকিৎসকরা জানান, তারা কাজে ফিরতেই চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের দাবীকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না সরকার। সেই কারণেই ফের হাসপাতালের ভিতর হামলার মুখে জুনিয়র চিকিৎসকরা। এই ঘটনার প্রতিবাদেই ফের সম্পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। আপাতত সাগর দত্ত হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকরাই কর্মবিরতির ঘোষণা করেছেন। বাকি মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকরা এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও ঘোষণা করেন নি। তবে পরবর্তীতে যদি অন্য কোনও হাসপাতালে ফের এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে রাজ্যেরস্মস্ত মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র চিকিৎসকরাই যে কর্মবিরতির ডাক দিতে পারেন, তেমনটাই মনে করা হচ্ছে।





