পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের পর এবার বন্ধ হয়ে গেল কপিলমুনির মন্দিরের দরজাও, ‘দানা’ কারণে প্রবল ক্ষয়ক্ষতির আতঙ্কে গঙ্গাসাগরের মানুষ

ক্রমেই শক্তি বাড়িয়ে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় দানা। ওড়িশার ধামরা ও ভিতরকণিকা এলাকাত মধ্যেই আছড়ে পড়বে এই ঘূর্ণিঝড়। সঠিক সময় এখনও না জানাতে পারলেও, হাওয়া অফিস সূত্রে খবর বৃহস্পতিবার রাত বা শুক্রবার সকালেই ল্যান্ডফল হবে এই ঘূর্ণিঝড়ের। এর জেরে এবার বন্ধ করে দেওয়া হল গঙ্গাসাগরের কপিলমুনির আশ্রম।

জানা গিয়েছে, স্থলভাগের দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে দানা। ল্যান্ডফলের সময় এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। তা শক্তি বাড়িয়ে ১২০ কিলোমিটারও হতে পারে। বাংলায় ল্যান্ডফল না হলেও উপকূলীয় এলাকায় প্রভাব পড়বে ঘূর্ণিঝড়ের। সেই কারণেই বিশেষ সতর্কতা। এর আগে জানা গিয়েছিল, পুরীর জগন্নাথ মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দানার আশঙ্কায়। এবার পুন্যার্থীদের কথা ভেবে বন্ধ করে দেওয়া হল কপিলমুনির মন্দিরও।   

গতকাল, বুধবার থেকেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই মন্দির। দোকানপাট যা ছিল বন্ধ করা হয়েছে। তীর্থযাত্রীদের আনাগোনা তেমন নেই। এই সময় কোনও পুন্যার্থীকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না মন্দির চত্বরে। বন্ধ ভেসেল পরিষেবাও। এই মুহূর্তে কপিলমুনির আশ্রমে কোনও পুন্যার্থী নেই। দানা যাতে সেভাবে কোনও ক্ষতি না করতে পারে, সেই কারণে আশ্রমের সেবায়তরা পুজো শুরু করেছেন।

এর আগেও একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসেছে কপিলমুনির আশ্রমের উপর। গঙ্গাসাগরের এই মন্দিরের সামনের ঘাটের প্রায় দু কিলোমিটার নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে আগেই। সেই কারণেই দানার জেরে সিঁদুরে মেঘ দেখছে সেখানকার বাসিন্দারা। বেশ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে ‘দানা’ নিয়ে! কোথায় হবে ল্যান্ডফল, আমফান-আয়লার চেয়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়? কী জানাল আবহাওয়া দফতর?

স্থানীয়দের দাবী, এখানে একাধিকবার কাজ হয়েছে বটে কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। এর আগে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের নদীবাঁধ ভেঙে পড়েছে। এবার দানার সময় তা আরও ভাঙতে পারে বলে আশঙ্কা। জানা গিয়েছে, গঙ্গাসাগরের ১ নম্বর থেকে ৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  

RELATED Articles