দ্বিতীয় হুগলি সেতু বন্ধ, বসানো হয়েছে জলকামান, বিজেপি যুব মোর্চার নবান্ন অভিযানে যুদ্ধ পরিস্থিতি কলকাতায়

কলকাতা ও হাওড়া থেকে চারটি মিছিল দিয়ে নবান্নে গেরিলা অভিযান করে ঘেরার পরিকল্পনা করেছিল বিজেপি যুব মোর্চা। যদিও সেই মিছিল ঠিক করে শুরু হতে পারেনি এখনও তবে মিছিল রুখতে রীতিমতো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পড়েছে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ। নিয়ে আসা হয়েছে জলকামান। বিভিন্ন রাস্তায় দেওয়া হয়েছে ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড। কলকাতাকে রীতিমতো দুর্গ বানিয়ে ফেলা হয়েছে। শহরে ঢোকার মূল রাস্তাগুলোকে পুরোপুরি আটকে দেওয়া হয়েছে। জেলা থেকে মিছিল যাতে কলকাতায় আসতে না পারে সেজন্য দ্বিতীয় হুগলি সেতু ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনিবার্য কারণ দর্শিয়ে হাওড়াতে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে!

অন্যদিকে ডানকুনিতে পুলিশ বিজেপি কর্মীদের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ। লাঠির আঘাতে তাদের মহিলা কর্মীরাও জখম হয়েছেন।

যদিও মুখে কিছু না বলা হোক তবে যেভাবে আজ ও আগামীকাল নবান্ন আচমকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাতে এই কথা স্পষ্ট যে রাজ্য সরকার বিজেপি যুব মোর্চার আন্দোলনে ভয় পেয়েছে, বলছেন যুব মোর্চা কর্মীরা। এমনকি বিজেপি যুব মোর্চা যাতে রণে ভঙ্গ দিয়ে আজ মিছিল না করে সেজন্য গত কাল নবান্নের তরফে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল যুব মোর্চাকে। সেই চিঠিতে বিপর্যয় মোকাবিলা আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করেছিল রাজ্য সরকার। এছাড়া গতকাল বিকেল থেকেই মিছিল আটকানোর জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। ফলে গোটা কলকাতা এবং হাওড়া জুড়ে একটি যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছিল রাজ্য পুলিশ সঙ্গে সহযোগী হয়েছে র‍্যাফ।

আজ সকালেই সাঁতরাগাছিতে ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেডের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেখানে বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং কলকাতার দিকে যাওয়ার রাস্তা ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় হুগলি সেতু পুরোপুরি বন্ধ। তা ছাড়া মজুত রাখা হয়েছে জল কামান, মোতায়েন র‌্যাফ। রয়েছেন বিরাট সংখ্যায় পুলিশকর্মীরাও। হেস্টিংস চত্বরে তৈরি করা হয়েছে ব্যারিকেড। সব মিলিয়ে বিজেপিকে যেনতেন প্রকারে আটকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মমতা সরকার।

যেহেতু আজ নবান্ন বন্ধ থাকবে তাই সকালবেলায় কৌশল পরিবর্তন করে কালীঘাটের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির মহিলা কর্মীরা। এরপর তারা হাজরা মোড়-এর কাছে বিক্ষোভ অবস্থান করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে রাজ্য বিজেপি সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেছেন, বাংলায় পুলিশ যে তৃণমূল কর্মীদের মতো আচরণ করে সেটা গোটা দুনিয়াই জানে। ফলে তারা যে আজকে তৃণমূল কর্মীদের মতো আচরণ করবেন এই কথা জানা। আমাদের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়াই আছে যেখানেই মিছিলে বাঁধা পড়বে সেখানেই বসে যেন বিক্ষোভ শুরু করে দেয়।

RELATED Articles

Leave a Comment