দিনটা ছিল ২০১৯-এর ৯ই ফেব্রুয়ারি। ভরাসভায় খুন হন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। ক্লাবের সরস্বতীপুজোর উদ্বোধনে গিয়ে আর ফেরা হয়নি তাঁর। এই খুনের ঘটনায় এবার ফের জেরার মুখে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। গত বুধবার তাঁকে ভবাণীভবনে ডেকে টানা ৪ ঘণ্টা জেরা করে সিআইডি। সত্যজিৎবাবুর খুনের ঘটনায় এনিয়ে তাঁকে তিনবার জেরা করা হল।
এর আগে জগন্নাথবাবুকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ ও ৯ তারিখে ম্যারাথন জেরা করে সিআইডি। তবে খুনের সমাধান সূত্র এখনো মেলেনি। সত্যজিত্ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় তৃণমূল ষড়যন্ত্র করে বিজেপির লোকজনকে ফাঁসাচ্ছে, এই অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। তবে কলকাতা হাইকোর্ট জগন্নাথ সরকারকে পুলিশি তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়। অন্যদিকে জগন্নাথ সরকারও সব রকম সহযোগিতা করবেন জানিয়ে দেন। তার বক্তব্য পুরভোটের দিকে তাকিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিসন্ধি করছে তৃণমূল।
প্রসঙ্গত, গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে হাত কয়েক দূরত্বে নিজেরই ক্লাবের সরস্বতী পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে ভরাসভায় খুন হন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁর মাথায় গুলি করেন আততায়ীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা একাংশ সেসময় দাবি করেন, এই খুন রীতিমতো প্ল্যান করেই করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিজিৎ পুন্ডারি নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এমনকি সত্যজিত বিশ্বাস খুনের পর শনিবার রাতেই অভিজিৎ এর বাড়ি ভাঙচুর করে স্থানীয় মানুষজন।
খুনের রাতেই ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহের কাজে লেগে পড়ে পুলিস। এরপর বিধায়ক খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হয় কার্তিক মণ্ডল ও সুজিত মণ্ডল নামে আরো দু’জন। এদেরও ম্যারাথন জেরা করে পুলিস। ঘটনাস্থলের থেকে প্রায় একশো মিটার দূরে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। সেগুলিকে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। আততায়ীর খোঁজে স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফুটেজও জোগাড় করে পুলিস।
পাড়ার সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠান বলে এদিন এলাকাবাসীরা মোবাইলে ছবি তুলছিলেন। অনেকে আবার অনুষ্ঠানের ভিডিও করে রেখেছেন। খুনের ঘটনার পর সেইসব ছবি বা ভিডিও থেকেও কোনও ফুটেজ পাওয়া যায় কি না তাও খতিয়ে দেখে পুলিস। খুনের ধরন ঘটনা দেখে বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন, এই খুন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী করা। এদিন পুজোর অনুষ্ঠানের মাঝে বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছিল। যার জেরে স্থানীয় মানুষের একাংশের দাবি, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে যাতে সহজেই গুলি চালানো যায় তাই বার বার এমন করা হচ্ছিল। এই খুন সম্পূর্ণ প্ল্যানমাফিকই সম্পন্ন করা হয়েছে।






