দুপুরবেলা হঠাৎই গুলির শব্দে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা পাড়া। এলাকার বাসিন্দারা ভেবেছিলেন হয়তো বাজি ফাটানো হচ্ছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই খবর ছড়িয়ে পড়ে—বাড়ির ভেতরে ঢুকে খুন করা হয়েছে এক ছাত্রীকে। নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মানিকপাড়া অঞ্চলের ঘটনা রীতিমতো আলোড়ন ফেলেছে।
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, দুপুর প্রায় দুটো থেকে আড়াইটা নাগাদ একজন যুবক তাঁদের বাড়িতে হাজির হন। শুরুতে তাকে বাধা দেওয়া হলেও তিনি হাতে বন্দুক দেখিয়ে ভয় দেখান। এরপর ধাক্কা দিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। সবাই কিছু বোঝার আগেই তিনি ছাত্রীটির ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কয়েক সেকেন্ড পরই ভেসে আসে গুলির আওয়াজ।
মৃতার নাম ইশিতা মল্লিক। বয়স মাত্র ১৯ বছর। কলেজে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। পরিবারের সামনেই ঘটে যায় এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য। আততায়ীর নিশানায় ছিলেন শুধুই ইশিতা। কাছ থেকে গুলি চালানোয় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। অকুস্থলে পৌঁছেই তদন্তে নামে কৃষ্ণনগর থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম দেবরাজ সিং। বাড়ি কাঁচরাপাড়া এলাকায়। বয়স আনুমানিক ২৩ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, ইশিতা ও দেবরাজের মধ্যে আগে থেকেই পরিচয় ছিল। কাঁচরাপাড়ায় পড়াশোনার সময় আলাপ হলেও কিছু কারণে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই টানাপোড়েনই শেষমেশ মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনে বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
আরও পড়ুনঃ Jiban Krishna Saha : পুকুরে ফোন ছুড়ে পালানোর চেষ্টা! শেষমেশ ইডির হাতে ধরা পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা!
নিহতের বাড়ি কৃষ্ণনগরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে, পুলিশ সুপারের অফিসের কাছেই। সেখানেই এমন চাঞ্চল্যকর খুন নিঃসন্দেহে নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই দেবরাজকে চিহ্নিত করেছে। কেন এই হত্যাকাণ্ড—ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রেমজনিত সমস্যা নাকি অন্য কোনও কারণ সেই দিকেই এখন নজর তদন্তকারীদের।





