দিল্লি নির্দেশ দিয়েছে যাতে সন্দেশখালিতে অশান্তি জিইয়ে রাখা হয়, অভিষেকের জন্য আদালত শাহজাহানকে গ্রেফতারির নির্দেশ দিয়েছে, দাবী কুণালের

আজ, সোমবারই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে যে শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে কোনও বাধা নেই। আদালতের এই রায়ের পরই বঙ্গ রাজনীতিতে ফের উত্তেজনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের দাবী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অপ্রিয় সত্য সামনে এনেছেন বলেই আদালত এই রায় দিয়েছে। আবার তাঁর এও দাবী, দিল্লি থেকেই নাকি নির্দেশ এসেছে যাতে সন্দেশখালির আগুন কোনওভাবেই নিভে না যায়।

গত মাসের শুরুর থেকেই সন্দেশখালিতে আগুন জ্বলছে। শেখ শাহজাহান ও তাঁর সাগরেদদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন সেখানকার মহিলারা। তাদের জমি, বাড়ি জোর করে দখল করা থেকে শুরু করে তাদের শ্লী’ল’তা’হা’নি, তাদের উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন মহিলারা। সেই ঘটনায় উত্তর ও শিবুকে গ্রেফতার করা হলেও এখনও অধরা শেখ শাহজাহান।

বিরোধীদের দাবী, শাহজাহানকে শাসক দলই আড়াল করছে। এমন আবহে গতকাল, রবিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবী করেন যে শাহজাহানকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না বিচারব্যবস্থার কারণেই। আদালতে ইডির মামলা চলায় শাহজাহানের গ্রেফতারি  আটকে রয়েছে। তৃণমূলের দাবী, অভিষেক এই ‘অপ্রিয় সত্য’ কথা বলার পরই আদালত নড়েচড়ে বসে জানিয়েছে যে শাহজাহানকে গ্রেফতার করতে কোনও বাধা নেই।

কী বলেছেন কুণাল ঘোষ?

তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের কথায়, “অভিষেক তো সকলের সামনে এনে দিয়েছেন। কোর্টে তো এই ইস্যুর শুনানি আজ ছিল না। সেখানে এটা আজ উঠেছে। অভিষেক অপ্রিয় সত্য সামনে এনে দিয়েছেন বলেই”।

আদালতের রায় প্রসঙ্গে তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, “একবার বলছে ধরার রায় দিলাম। কিন্তু আবার সেটা ব্যাকফায়ার করছে বলে সেটা নিয়েই অন্য কথা বলছে। সন্দেশখালির আগুন যেন নিভে না যায়। এই আগুন দেওয়ার নির্দেশ দিল্লি থেকে আসছে। বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী আসছেন ইস্যু জিইয়ে রাখো”। অর্থাৎ দিল্লির কারণেই এখনও সন্দেশখালি অশান্ত হয়ে রয়েছে, এমনটাই দাবী করতে চাইলেন কুণাল ঘোষ।

তবে তৃণমূলের দাবী খারিজ করে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “আদালত কোনও দিন গ্রেপ্তারিতে বাধা দেয়নি। আমি আজ আদালতে থাকলে ওদের (তৃণমূল) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করতাম”।

RELATED Articles