আর জি কর কাণ্ড নিয়ে গোটা রাজ্য এখন উত্তাল। দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ। আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সকলে। শুধুমাত্র রাজ্য বা দেশ নয়, বিদেশের মাটিতেও পড়েছে এই আন্দোলনের আঁচ। সামনে আসছে নানান বিস্ফোরক তথ্য। এরই মধ্যে এবার আর জি করের বিস্ফোরক নিয়ে আচমকাই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
আর জি কর কাণ্ডের তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব। টানা চারদিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আর জি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে। আজ, সোমবারও সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছেছেন তিনি। এরই মধ্যে দেখা গেল কুণাল ঘোষও পৌঁছেছেন সিজিও কমপ্লেক্সে। হাতে একটা ফাইল। কী রয়েছে সেই ফাইলে? আর জি কর কাণ্ড নিয়েই কী কোন বিস্ফোরক তথ্য রয়েছে তাতে?
এদিন সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার মুখে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ জানান, তিনি নিজের একটা কাজে সিজিও কমপ্লেক্সে এসেছেন। তিনি এও জানান, আর জি করের জুনিয়র চিকিৎসকরা কিছুদিন আগেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। আর জি কর নিয়ে বেশ কিছু তথ্য তারা তাঁকে দিয়েছেন। সেই তথ্য সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেবেন তিনি।
কুণালের কথায়, আর জি কর নিয়ে যে সমস্ত তথ্য তাঁকে জুনিয়র চিকিৎসকরা তাঁকে দিয়েছেন, সেই চিকিৎসকরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন। ফলে সিবিআই তাদের তলব করবে না। সেই কারণে চিকিৎসকরা সেই তথ্য তাঁর হাতে দিয়েছেন যাতে তিনি সেই তথ্য সিবিআইয়ের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। চিকিৎসকরা চেয়েছিলেন যাতে এই তথ্য সিবিআইয়ের কাছে পৌঁছক। সেই কারণেই কুণালের মাধ্যমে তা সিবিআইয়ের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন তারা।
কী রয়েছে সেই ফাইলে? তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু নিয়ে কোনও তথ্য? নাকি হাসপাতালের অভ্যন্তরের কোনও চক্রের তথ্য? এই নিয়ে কুণাল অবশ্য কোনও মন্তব্য করেন নি। তাঁর কথায়, তিনি এই ফাইলের তথ্যের সত্যাসত্য জানেন না। সিবিআইয়ের হাতে তিনি এই তথ্য তুলে দেবেন। তদন্তকারীদের যদি মনে হয় এই তথ্য আর জি করের তদন্তে কাজে লাগবে তাহলে ওই চিকিৎসকদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করতে পারেন। তবে ফাইলে কী রয়েছে বা ঠিক কোন বিষয়ে তথ্য রয়েছে, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি, এমনটাই জানান তৃণমূল নেতা।
কুণাল এদিন এও বলেন, “আরজি কর হাসপাতালের প্রতি আমার একটা দুর্বলতা রয়েছে। আমার বাবা-মা দুজনেই আরজিকরের মেডিক্যাল স্টুডেন্ট ছিলেন। আমার জন্ম আরজিকরে। আমার ঠাকুরদার ওষুধের দোকানও আরজিকরের গায়ে ছিল। পরে এক্সটেনশনের সময়ে উঠে যায়। আরজিকরের প্রতি আমার একটা দুর্বলতা রয়েছে”।





