গতকাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৫ই আগস্ট লকডাউন করা নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। আর আজ প্রায় একই কথা বললেন আরও এক বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। চলতি মাসে একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কথা মাথায় রেখে লকডাউনের তারিখ বদল করেছে রাজ্য সরকার। আগের লকডাউনের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ১৬,১৭,২৩ এবং ২৪ অগাষ্টকে। পরিবর্তে লকডাউন করা হচ্ছে ২০,২১,২৭ এবং ২৮ অগাষ্ট।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বামপক্ষ কটাক্ষ করার পর এক হাত নিলেন বিজেপি নেতা রাহুল। এই বিষয়ে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে সোমবার রাহুল সিনহা বলেন এই সরকার, ব্যার্থ সরকার। লকডাউনের দিন ঠিক করতে গিয়ে পাঁচবার দিন বদল করেছে। তাহলে বুঝুন, এই সরকারের যোগ্যতা কতটা। এঁরা একটা লকডাউনের দিন ঠিক করতে পারে না, শুধুমাত্রই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে পারে।
আগামী ৫ অগাস্ট রাম মন্দিরের ভূমি পুজো। বিজেপির কাছে অত্যন্ত আনন্দের দিন। আর বেছে বেছে এই দিনটি পড়েছে রাজ্যে লকডাউনের আওতায়। তাই শুধুমাত্র এই দিনটি বদল করার আর্জি বারবারেই জানিয়ে আসছিলেন রাজ্য বিজেপি নেতারা।
গতকালই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন পূর্ণ লকডাউনের তারিখ বদলাক মুখ্যমন্ত্রী। নয়তো বাংলার মানুষ বুঝে যাবে, উনি ইচ্ছে করে হিন্দুদের মনে আঘাত দিচ্ছেন। রাম মন্দিরের ভূমি পুজোর দিন লকডাউন ডাকা নিয়ে এমনটাই বক্তব্য ছিল তাঁর।
একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন এটা কোনও বিজেপির বিষয় নয়। এটা দেশজুড়ে হিন্দু অস্মিতার জাগরণ। বাংলাও তাতে সামিল হবে। কিন্তু সেই দিনে লকডাউন করে আসলে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের সেই পবিত্র ভাবাবেগে আঘাত করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এটা অমানবিক।
আর এবার ভূমি পুজো নিয়ে রাহুল সিনহা বলেন, ৫ অগাস্ট ভারতের ইতিহাসে একটি বিরাট দিন। দীর্ঘদিনের রাম মন্দিরের বিবাদ শেষে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের দিন। ওই দিন লকডাউন করে যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি মমতা করছেন তার মূল্য তাঁকে দিতে হবে। এই সাম্প্রদায়িক হঠকারী রাজনীতির জবাব সময় দেবে মানুষ। তবে লকডাউন না হলে মানুষ বাইরে বের হতো। লকডাউন থাকার ফলে মানুষ ঘরে বসে রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ঘরে বসে দেখতে পাবে। মুখ্যমন্ত্রী রাম মন্দির থেকে মানুষের নজর যতই ঘোরানোর চেষ্টা করুন না কেন, পারবেন না।





