আজ ২৩শে জানুয়ারি, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী। এই দিনটিকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করে নি কেন্দ্র সরকার। এই নিয়ে বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছেন। আজ ফের একবার নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে জাতীয় ছুটি নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করলেন মমতা। বললেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এসে নেতাজিকে ভুলে গিয়েছে”।
কী বললেন মমতা?
প্রত্যেক বছরের মতো আজ, মঙ্গলবারও নেতাজির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে রেড রোডে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পর আক্ষেপের সুরেই বলেন, “এদেশে পলিটিক্যাল প্রচারের জন্য ছুটি হয়ে যায়। কিন্তু দেশনায়কদের জন্মদিনে হয় না। তিনি আমাদের লড়তে শিখিয়েছিলেন, বাঁচতে শিখিয়েছিলেন। গান্ধীজীকে তাঁকে প্রথম দেশনায়ক বলে অভিহীত করেছিলেন। আমি বিশ বছর ধরে চেষ্টা করেও তাঁর জন্মদিনটা জাতীয় ছুটির দিন হিসাবে ঘোষণা করতে পারি নি। আমি ক্ষমাপ্রার্থী, আমি লজ্জিত”।
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। নেতাজির গোপন চিঠি, নথি প্রকাশ নিয়ে কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন তিনি। অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্র সরকার নেতাজির চিঠি সামনে আনেন নি। মমতার কথায়, “নেতাজি তৈরি করেছিলেন প্ল্যানিং কমিশন। আমাদের কী দুর্ভাগ্য, যে মানুষটা দেশের জন্য লড়াই করতে গিয়ে কোথায় যে হারিয়ে গেলেন, আজ পর্যন্ত আমরা জানতে পারলাম না। তাঁর জন্মদিনটা জানলেও মৃত্যুদিনটা জানি না। এটা চিরঅমবস্যার অন্ধকারে আমরা ডুবে”।
মমতার সংযোজন, “আমাদের সরকার আসার পর ৬৪টা ফাইল ছিল। সেগুলি পাবলিক ডমেনে এনেছিলাম। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই বলেছিল, রহস্য উদঘাটন করব।কিন্তু সবাই সব ভুলে যায়। আজকে প্ল্যানিং কমিশন তুলে দেওয়া হয়েছে। প্ল্যানিংটা কিলিং। ঘৃণার রাজনীতি চলছে। নীতি আয়োগ তৈরি করেছে। না আছে নীতি, না আছে আয়োগ। মোমের পুতুল”।
সবশেষে মমতা বলেন, “তিনি যা বলে গিয়েছিলেন দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে, তাঁর কথাগুলো যদি মান্য করে আমরা চলতাম, দেশ আরও উন্নত হত। নেতাজির তিনটি কথা ছিল। আমি দার্জিলিংকে অভিনন্দন জানাই। ওখানে অনীত থাপা রয়েছেন। আরও অনেকে আছেন। নেতাজির জন্মজয়ন্তী উদযাপন হচ্ছে সেখানেও। আমি দার্জিলিং যাই বারবার। কারণ নেতাজির খুব পছন্দের জায়গা ছিল দার্জিলিং। একবার আমাকে (রেনকোজি মন্দিরে অবস্থিত ছাই) নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। আমি সেটা নিতে চাই না। ছাই নয়, আমি জীবন্ত নেতাজি চাই”।





