একসময় স্বপ্ন ছিল স্কুলের ক্লাসরুমে দাঁড়িয়ে পড়ানোর। ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠার পথে সেই স্বপ্নটাকেই জীবনের লক্ষ্য বানিয়েছিলেন বহু চাকরিপ্রার্থী। পড়াশোনার অজস্র রাত, অবিরাম লড়াই, SSC পরীক্ষায় পাশ করে অবশেষে শিক্ষকতার সুযোগ পেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায় এক লহমায় সবকিছু পাল্টে দিল। আজ তাঁরা পরিচয়ে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ নন, বরং ‘চাকরিহারা’ তকমায় দগ্ধ ২৬ হাজার প্রাণ।
গত সপ্তাহে দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ২৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি। রায়ে জানানো হয়েছে, নিয়োগে একাধিক অনিয়ম ছিল। এতেই কার্যত মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষিকার। কারও সংসার চালানো নিয়ে চিন্তা, কারও ঋণের বোঝা, কেউ বা ভবিষ্যৎ নিয়ে নিদ্রাহীন রাত কাটাচ্ছেন। চোখে শুধুই হতাশা আর বুকের মধ্যে রয়ে গেছে একরাশ ক্ষোভ।
এই ঘটনার পর থেকেই কলকাতায় শুরু হয়েছে লাগাতার বিক্ষোভ। নিয়োগ বাতিল হওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের একটাই দাবি, যাঁরা প্রকৃত পরীক্ষায় পাশ করে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের যেন আর কোনওভাবে চাকরিচ্যুত না করা হয়। কারণ তাঁদের বক্তব্য, নিয়োগ দুর্নীতির দায় কেন তাঁদের মতো যোগ্য প্রার্থীদের ওপর বর্তাবে? তাঁদের জীবনে যে ঝড় উঠেছে, তার দায় কে নেবে?
এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সেই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, বিকল্প ব্যবস্থা (Plan B) করার চেষ্টা চলছে। তবে এই ব্যবস্থা কেমন হবে, কারা সেই সুফল পাবেন, বা কত দ্রুত সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট বার্তা নেই। ফলে ফের অনিশ্চয়তার মাঝেই জীবন কাটাতে হচ্ছে SSC-র বাতিল হওয়া চাকরিপ্রার্থীদের।
আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ, তবু ডাক্তার! প্রেসক্রিপশন দেখে মাথায় হাত নেটদুনিয়ার
চাকরি ফিরে পাওয়ার লড়াই চলছে পুরোদমে। অনেকেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বলছেন, “যদি সত্যিই আমরা যোগ্য হই, তাহলে ন্যায়বিচার একদিন আমাদের দিকেই আসবে।” তবে আপাতত এই ২৬ হাজার মানুষ জানেন না, আগামী দিন কোথায় নিয়ে যাবে তাঁদের। পিছুটান ছেড়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা এখনও অন্ধকারেই ঢাকা।






